কুয়েতের আকাশসীমায় গত মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা ভুলবশত নিজ পক্ষের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক ধারণার মতো কোনো ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং এফ-১৮ মডেলের একটি মার্কিন ফাইটার জেটের আঘাতেই মার্কিন বাহিনীর নিজস্ব তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল বিধ্বস্ত হয়েছে।
এফ-১৮ হর্নেট মূলত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি মাল্টিরোল ফাইটার জেট, যা সাধারণত বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালিত হয়। এটি একই সাথে আকাশপথে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে এবং স্থল বা সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম। নাইন-ইলেভেন পরবর্তী ‘ওয়ার অন টেরর’ সহ আমেরিকার প্রায় প্রতিটি বড় সামরিক অভিযানে এই যুদ্ধবিমানটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
আশির দশকের কালজয়ী সিনেমা ‘টপ গান’-এর বিখ্যাত এফ-১৪ টমক্যাট বিমানটিকে দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২২ সালের সিক্যুয়েল ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’-এর প্রধান আকর্ষণ ছিল এই এফ-১৮ সুপার হর্নেট। কাকতালীয়ভাবে, সিনেমার প্রথম পর্বের সেই বিখ্যাত বিমানগুলোকে সরিয়ে বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে এই সুপার হর্নেটগুলোই। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মতে, এটি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রমাণিত একটি অত্যন্ত শক্তিশালী যুদ্ধবিমান।
সুপার হর্নেটের পাশাপাশি এর আরেকটি আধুনিক সংস্করণ হলো গ্রাউলার। এটি বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে থাকা সেরা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমান। এটি শত্রুর রাডার ব্যবস্থাকে জ্যাম করে দিতে পারে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাডার উৎস খুঁজে নিয়ে ধ্বংস করতে সক্ষম। সুপার হর্নেট ও গ্রাউলার মিলে একটি শক্তিশালী দল হিসেবে কাজ করে, যা শত্রুর ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ব্যবস্থাকে অচল করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
কুয়েতের আকাশে এই উন্নত প্রযুক্তির বিমানটি ঠিক কীভাবে নিজেদেরই তিনটি বিমানকে শত্রু মনে করে ধ্বংস করল, তা নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের মাঝেও এই ধরনের ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ঘটনা সামরিক বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। তবে, সমরবিদদের মধ্যে, অতি উচ্চ উত্তেজনা আর চাপের মধ্যে পরিচালিত যুদ্ধে এ ধরনের ভুল অস্বাভাবিক কোন ঘটনা নয়।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি