যে কোনো মুহূর্তে খামেনির উত্তরসূরির নাম ঘোষণা

ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য দেশটির বিশেষ ধর্মীয় পরিষদ বা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ সদস্যের মধ্যে একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐক্যমত তৈরি হয়েছে। গেলো ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের বিষয়ে রোববার এই তথ্য জানান পরিষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ-মেহদি মিরবাঘেরি। আশা করা হচ্ছে শিগগিরই সর্বোচ্চ নেতার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

মেহের নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ার কিছু ‘প্রতিবন্ধকতা’ এখনও মেটানো বাকি রয়েছে। এর আগে শনিবার পরিষদের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য জানিয়েছিলেন, আগামী এক দিনের মধ্যেই পরবর্তী নেতা নির্বাচনের জন্য সদস্যরা বৈঠকে বসবেন।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, পরিষদের দুই সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহসেন হায়দারি আলেকাসির ও আহমদ আলমোলহোদা নিশ্চিত করেছেন, তারা উত্তরসূরি বেছে নিয়েছেন। আলমোলহোদা জানান, পরিষদের সচিবালয়ের প্রধান আয়াতুল্লাহ হাশেম হোসেইনি বুশেহরি এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সশরীরে উপস্থিত হয়ে বৈঠক করা জরুরি কি না, তা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে সামান্য মতভেদ রয়েছে। রোববার নূর-নিউজ কর্তৃক প্রকাশিত এক ভিডিওতে হায়দারি আলেকাসির বলেন, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সশরীরে বৈঠক করা সম্ভব নয়। তিনি দূরবর্তী (রিমোট) বা লিখিত উপায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি যোগ করেন যে, এই অসাধারণ পরিস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ডাকা সম্ভব নয় এবং পরিষদের ওপর কোনো হামলা হলে তা শুধু ইরানের শত্রুদেরই লাভবান করবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনেইসহ বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার কোম শহরে পরিষদের একটি ভবনেও হামলা চালানো হয়।

আলেকাসির আরও জানান, পরবর্তী নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রয়াত খামেনির একটি উপদেশকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। উপদেশটি ছিল, ইরানের শীর্ষ নেতাকে এমন হতে হবে যাকে ‘শত্রুরা ঘৃণা করবে’, প্রশংসা নয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, এমনকি স্বয়ং ‘মহা শয়তান’ (যুক্তরাষ্ট্র) তার নাম উল্লেখ করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনি ছেলে মোতজবা খামেনিকে একজন ‘অগ্রহণযোগ্য’ প্রার্থী হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেন, তিনি এই ধরণের বিকল্প প্রত্যাখ্যান করবেন এবং ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা থাকা উচিত।

৫৬ বছর বয়সী মোতজবা খামেনেই যুদ্ধের শুরুতে তার বাবা নিহত হওয়ার সময় তেহরানে ছিলেন না। সরকারি কোনো পদে না থাকলেও বাবার দপ্তরের প্রভাবশালী কর্মকর্তা এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন।

 
তবে ২০২২ সালে হিজাব বিরোধী আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের তীব্র সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তিনি। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।