নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি পেজেশকিয়ানের আনুগত্য

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়ে তার প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের শপথ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার এক বিশেষ বার্তায় প্রেসিডেন্ট এই নির্বাচনকে ইরানি জাতির জন্য এক ‘ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ’ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বার্তায় উল্লেখ করেন, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সুচিন্তিত ও নিষ্পত্তিমূলক সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য সম্মান ও শক্তির এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন আসলে ইরানি জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন, যা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে এবং শত্রুদের যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এক অভেদ্য দেয়াল হিসেবে কাজ করবে।


প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনির অবদানের কথা স্মরণ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি বিপ্লবকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এবং ব্যবস্থাকে যেভাবে সুরক্ষিত রেখেছেন, তা ইরানের ভবিষ্যতের জন্য একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে।

নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে পেজেশকিয়ান বলেন, মুজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। জ্ঞানদীপ্ত শাসন এবং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশ প্রগতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সুমিষ্ট ফল ভোগ করবে। বিশ্ব দরবারে ইরানের সম্মান ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শাসনের ‘নগ্ন আগ্রাসনের’ কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, শহীদ নেতার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং বীরত্বপূর্ণ ইরানি জাতির প্রতিরোধের মুখে কোনো বাধাই স্থায়ী হবে না। তিনি বিশ্বাস করেন, মেধাবী এলিট সমাজ, সাহসী তরুণ এবং নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইরান বর্তমানের সব কঠিন প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠবে।


উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনির শাহাদাতের পর ৯ মার্চ ভোররাতে বিশেষজ্ঞ পরিষদ মোজতবা খামেনিকে নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা করে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং শত্রুর সরাসরি হুমকি থাকা সত্ত্বেও পরিষদ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছে। বিপুল ভোটে নির্বাচিত এই নতুন নেতার হাত ধরেই ইরান একটি প্রগতিশীল ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে, এমনটাই প্রার্থনা করেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।

তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ