ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যখন দেশটি তার ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিধ্বংসী সামরিক হামলা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা, সব মিলিয়ে এক অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি তেহরানের নতুন নেতৃত্ব। বলা চলে, কণ্টকাকীর্ণ পথেই যাত্রা শুরু করলেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইরানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামরিক মহলের কাছ থেকে জোরালো সমর্থন পেয়েছেন মোজতবা খামেনি। বিশেষ করে আইআরজিসির মতো শক্তিশালী বাহিনী তার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করেছে। যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের পরিবর্তনকে তারা ‘ইসলামি বিপ্লবের নতুন উদয়’ হিসেবে দেখছে। আইআরজিসি বলেছে, নতুন নেতার আদেশ পালনে তাদের পুরো বাহিনী প্রস্তুত।

তবে শুধু যুদ্ধই তার একমাত্র বাধা নয়। মোজতবা খামেনিকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেতে হয়েছে একটি পঙ্গু অর্থনীতি। বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার ফলে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখন খাদের কিনারায়। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি রয়েছে রেকর্ড পর্যায়ে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে আলী মোজতবার নিয়োগের ঘোষণার পর থেকেই তেহরানের বিভিন্ন স্থানে সমর্থকরা জড়ো হয়েছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এঙ্গেলাব (বিপ্লব) চত্বরে ব্যাপক জমায়েত দেখা গেছে, যদিও সেখানে হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এক ধরণের ‘জাতীয় সংহতি’ লক্ষ্য করা গেলেও ভুলে গেলে চলবে না যে ইরান এখন একটি চরম মেরুকরণ হওয়া সমাজ। গত ডিসেম্বরের শেষভাগেও দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া সেই আন্দোলনে পরবর্তীতে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার দাবিও যুক্ত হয়েছিল। বলা বাহুল্য, সেই বিক্ষোভের সূত্র ধরেই ইসরাইল-মার্কিন জোট হামলা শুরু করে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোজতবা খামেনির সাফল্য নির্ভর করবে তিনি এই জটিল সমীকরণগুলো কীভাবে সমাধান করেন তার ওপর। তিনি কি শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করবেন, নাকি ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি আর বিক্ষুব্ধ জনগণের ক্ষোভ প্রশমনে কোনো গঠনমূলক পরিবর্তন আনবেন?
আপাতত তেহরানের রাজপথ সমর্থকদের স্লোগানে মুখরিত থাকলেও, পর্দার আড়ালে থাকা সামাজিক অসন্তোষ যে কোনো সময় আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। যুদ্ধের ডামাডোলে এই অভ্যন্তরীণ ফাটলগুলো মেরামত করাই হবে নতুন নেতার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ইরানের নতুন নেতা বেশিদিন টিকবে না: ট্রাম্প