যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে এখনই কোনো চুক্তি নয়: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই মুহূর্তে ইরানের সাথে কোনো সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত নন। শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির ওপর তাঁর কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান নিজেই এখন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে তিনি বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমি এখনই তা করতে চাই না। কারণ চুক্তির শর্তগুলো এখনো যথেষ্ট অনুকূল নয়। ট্রাম্পের মতে, যে কোনো সম্ভাব্য চুক্তিকে অবশ্যই অত্যন্ত শক্তিশালী হতে হবে। তবে, সেই শর্তগুলো আসলে কী হতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।


ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ওই দ্বীপের বেশিরভাগ স্থাপনা বর্তমানে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এই ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, শুধু মজা করার জন্য আমরা সেখানে আরও কয়েকবার আঘাত করতে পারি।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প অন্যান্য দেশগুলোর প্রতি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বেশ কিছু দেশ আমেরিকার সাথে যৌথভাবে জাহাজ পাঠাতে রাজি হয়েছে। পরবর্তীতে নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যকে এই তালিকায় দেখার আশা প্রকাশ করেন।

যদিও সিএনএন পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে চীন বা যুক্তরাজ্য, কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।


ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবাকে প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা চলছে। ট্রাম্প বলেন, আমি জানি না তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না। এ পর্যন্ত কেউ তাঁকে প্রকাশ্যে দেখাতে পারেনি।

তিনি আরও যোগ করেন, আমি শুনছি তিনি বেঁচে নেই। আর যদি বেঁচে থাকেন, তবে নিজের দেশের মঙ্গলের জন্য তাঁর উচিত হবে বুদ্ধিমানের মতো কাজ করা, আর তা হলো আত্মসমর্পণ। খামেনির মৃত্যু সংক্রান্ত খবরকে তিনি আপাতত ‘গুজব’ হিসেবেই দেখছেন বলে জানান।

 ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব এবং যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অদূর ভবিষ্যতে থামার সম্ভাবনা কম। বরং মিত্র দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এই সংকটে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।