ইরানের সাথে চলমান সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোকে ওয়াশিংটনের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের ভিত্তিগুলো পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করছে বলে মনে করেন আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ আবাসিক স্কলার হুসেইন ইবিশ। মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি বসতে দেয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ ক্রমাগত হামলার শিকার হওয়ায় এখন এই প্রশ্ন উঠছে, এই মিত্রতা কি আদৌ সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে যার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল?

আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইবিশ বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এর সূত্রপাত অন্তত বারাক ওবামার আমল থেকে, যখন সিরীয় সরকার কর্তৃক রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে তাঁর দেয়া ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা লঙ্ঘিত হয়েছিল। আর এখন আমরা আরেকটি উদাহরণ দেখছি যেখানে মার্কিন ঘাঁটি রাখা এবং আমেরিকাকে নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে পাশে পাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি বা ধারণা ছিল, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এটি আপনাকে অস্থিতিশীল হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারছে না।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই কৌশল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবকে ইরানের বোমা হামলা থেকে বাঁচাতে পারেনি, কিংবা পরের বছর আবুধাবিকেও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
ইবিশ আরও বলেন, হামাসের সাথে আলোচনার সময় ইসরাইলি বোমা হামলা থেকে এটি কাতারকেও রক্ষা করতে পারেনি। আসলে এটি কাউকেই সুরক্ষা দিতে পারছে না; কারণ জিসিসিভুক্ত ছয় দেশের প্রত্যেকেরই ওয়াশিংটনের সাথে প্রধান নিরাপত্তা সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও তারা সবাই ইরানের হামলার শিকার হয়েছে, অথচ তার জন্য ইরানকে কোনো পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়নি।

তিনি উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এবং কাতারও তার নিজস্ব পন্থায়, এটি বুঝতে পেরেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার আক্রমণাত্মক ‘কন্টেনমেন্ট’ বা দমন কৌশলে যুক্ত হওয়া মানেই হলো নিজেদের বিপদাপন্ন করে তোলা, যার বিনিময়ে সুরক্ষার নিশ্চয়তা খুবই সামান্য।
ইবিশ সতর্ক করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইরান কেবল এই অঞ্চলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় না, বরং তারা এই সংঘাতকে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রে নিয়ে যেতে চায়। তিনি বলেন, “এর লক্ষ্য কেবল ওয়াশিংটনকে চাপে ফেলা নয়, বরং চীন, জাপান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোকেও সংকটে ফেলা। কারণ তেল এবং এলএনজি এমন পণ্য যা বিশ্বজুড়ে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
