মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচিত ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানিয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে পাঁচশ’র বেশি মার্কিন সেনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যার ফলে তাদের মধ্যে বিরাট ক্ষয়ক্ষতি হেত পারে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের আধা সরকারি গণমাধ্যম প্রেস টিভি এ খবর দিয়েছে।
প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাকারি জানান, শক্তিশালী আক্রমণের মুখে মার্কিন বাহিনী তাদের আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো থেকে পালিয়ে গিয়ে ঘাঁটির বাইরে দুটি গোপন স্থানে অবস্থান নিয়েছিল।
বিবৃতি অনুযায়ী, দুবাইয়ের প্রথম গোপন আস্তানায় চারশ’র বেশি এবং দ্বিতীয়টিতে একশ’র বেশি সেনা ছিল। উভয় স্থানই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সেস এবং নৌবাহিনীর নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।
মুখপাত্র এই হামলাকে অত্যন্ত বিধ্বংসী হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্সগুলো কয়েক ঘণ্টা ধরে মার্কিন কমান্ডারসহ আহত ও নিহত সেনাদের সরিয়ে নিচ্ছে। বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সামরিক কমান্ডারদের সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, এই অঞ্চল হবে মার্কিন সেনাদের কবরস্থান এবং তাদের সামনে এখন একমাত্র পথ হলো আত্মসমর্পণ।
ওমান উপকূলে মার্কিন জাহাজে হামলা: আলাদা এক ঘোষণায় মুখপাত্র জানান, শনিবার ভোরে ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে বেশ দূরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সহায়তাকারি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী। বিবৃতিতে ওমানের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কথা জানিয়ে দেশটিকে একটি ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করা হয়।
উল্লেখ্য, ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা চলা সত্ত্বেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাঈদ আলী খামেনি এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডারদের হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক ও উস্কানিমূলক যুদ্ধ শুরু করে।
বৈধ জবাবের কাঠামোর আওতায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনী অবিলম্বে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন স্বার্থ এবং অধিকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান শুরু করেছে।