ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে মধ্যপ্রাচ্যের রণপরিস্থিতি আরও জটিল এবং বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের একটি সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলাটি যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আমেরিকার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম বড় লঙ্ঘন।
সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে হামলায় শুধু সেনারাই আহত হননি, বরং মার্কিন বিমান বাহিনীর দুটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগেরই ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের কারণে মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছে। এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সিরিজ হামলা: শনিবার দিনভর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার খবর পাওয়া গেছে। ওমানের সালালাহ বাণিজ্যিক বন্দরে দুটি ড্রোন হামলায় একজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি ক্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা বন্দরের কাছে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তা জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ড্রোন হামলায় এর রাডার ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির একটি শিল্পাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসাবশেষের পতনে দুটি অগ্নিকাণ্ড এবং পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও, ইরাকের বসরায় একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন আছড়ে পড়েছে এবং বাহরাইনের একটি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে শান্তি আলোচনার দাবি করছেন, অন্যদিকে ইরানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে আলটিমেটামের সময়সীমা বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন। তবে ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার এই দাবি অস্বীকার করেছেন।
মানবিক দিক থেকে এই যুদ্ধ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানে ১,৪৯২ জন বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৩,৩০০ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে নিহতের সংখ্যা ১,১১০ ছাড়িয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোতে ৫০ জন এবং ইসরায়েলে ১৬ জন ইরানি হামলায় নিহত হয়েছেন।

ইরানের সস্তা কিন্তু কার্যকর 'শাহেদ' ড্রোনগুলো মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বারবার পরাস্ত করছে। এর ফলে মার্কিন কমান্ড তাদের হাজার হাজার সেনাকে নিরাপদ দূরত্বে, এমনকি ইউরোপেও সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। পরিস্থিতি বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কূটনীতির চেয়ে সামরিক সংঘাতই মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মনে হচ্ছে।
