ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধনাগার বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'ইসনা' দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী জনস্বার্থ সম্পর্কিত অবকাঠামোতে হামলা চালানো বড় অপরাধ।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ ও পেশাগত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান জানান, কেশম দ্বীপের বাসিন্দাদের পানীয় জলের প্রধান উৎস হলো এই পানি শোধনাগারগুলো। দুর্ভাগ্যবশত, একটি প্রধান প্ল্যান্ট সরাসরি হামলার শিকার হওয়ায় সেটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে স্বল্প সময়ের মধ্যে এটি মেরামত করে পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। এর ফলে দ্বীপের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেশম দ্বীপটি ক্ল্যারেন্স প্রণালী দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। কৌশলগতভাবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। গবেষকরা এই অঞ্চলটিকে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের রক্ষাকবচ বা ‘আর্চ ডিফেন্স’-এর অংশ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। ফলে এখানে যে কোনো ধরনের হামলা সামরিক ও বেসামরিক উভয় দিক থেকেই বড় প্রভাব ফেলে।
এই হামলার বিষয়ে সিএনএন-এর পক্ষ থেকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির অভাব থাকায় প্রায় ১০ কোটি মানুষ এই ধরনের পানি শোধনাগারের ওপর নির্ভরশীল।
সংঘাতের শুরু থেকেই এই অঞ্চলে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। বাহরাইন এর আগে দাবি করেছিল যে, একটি ইরানি ড্রোন তাদের জল শোধনাকারে আঘাত হেনেছে।
অন্যদিকে, গত ৭ মার্চ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন বাহিনী কেশম দ্বীপের এই প্ল্যান্টটিতে হামলা চালিয়েছে। তবে সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে এই হামলার ঘটনা ওই অঞ্চলের মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।