মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেলের বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান- ট্রিপল এ এর তথ্যমতে, মঙ্গলবার দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের (জ্বালানি তেল) গড় দাম চার ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। গত এক মাসে পাম্পগুলোতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম প্রায় ১ ডলার বেড়েছে। বর্তমানে এই দাম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই মেয়াদের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

এক মাস আগে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ছিল ২.৯৮ ডলার, যা বর্তমানে প্রায় ৩৪.৭ শতাংশ বেড়েছে। এই মাসিক বৃদ্ধির হার ২০০৫ সালের হারিকেন ক্যাটরিনা কিংবা ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পরবর্তী তেলের সংকটের চেয়েও অনেক বেশি।
গ্যাসের দাম সরাসরি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর নির্ভর করে। মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সোমবার তেলের দাম ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ব্যারেল প্রতি ১০২ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'হরমুজ প্রণালী' দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। যদিও বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল নয়, তবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতার প্রভাব থেকে তারা মুক্ত থাকতে পারছে না।
তেল বিশ্লেষক টম ক্লোজার মতে, জ্বালানির দাম রকেটের গতিতে বাড়লেও কমার সময় পালকের মতো ধীরগতিতে কমে। যদি যুদ্ধ এখনই থেমে যায়, তাহলেও সাধারণ মানুষের স্বস্তি পেতে বেশ সময় লাগবে। ক্লোজা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৫ ডলারে পৌঁছানো এখন অসম্ভব কিছু নয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ খুলে দেয়ার জন্য চাপ বাড়ছে। সাধারণ মানুষও গাড়ি চালানো কমিয়ে দিতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু রাজ্য জ্বালানি তেলের ওপর ট্যাক্স আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা ভাবছে। বর্তমানে রাজ্যভেদে এই ট্যাক্সের পরিমাণ প্রতি গ্যালনে ৯ থেকে ৭১ সেন্ট পর্যন্ত। এছাড়া ১৮.৪ সেন্টের ফেডারেল গ্যাস ট্যাক্সও স্থগিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা গ্রীষ্মকালীন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের কঠোর নিয়ম কিছুটা শিথিল করেছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং সাধারণ মানুষ গ্যালন প্রতি ৫ থেকে ১০ সেন্টের মতো ছাড় পেতে পারে। তবে যুদ্ধের অনিশ্চয়তা না কাটলে মার্কিন নাগরিকদের পকেটের ওপর এই চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
