কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত আবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মঙ্গল ও বুধবার মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দুই দেশের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পরিস্থিতি চরম যুদ্ধাবস্থায় পৌঁছেছে। একদিকে ওয়াশিংটন ইরানকে আরও বিধ্বংসী আক্রমণের হুমকি দিয়েছে, অন্যদিকে ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠিন জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, নৌ-সম্পদ, মাইন স্থাপনের অবকাঠামো ও যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোতে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে।
এর জবাবে আইআরজিসি বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাকের এরবিলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন অধিনায়কের আবাসন ও ড্রোন কেন্দ্র লক্ষ্য করে এবং ইরাকের এরবিলে সমন্বিত হামলা চালিয়ে বহু মার্কিন সেনাকে হত্যার দাবি করেছে আইআরজিসি। যদিও প্রাথমিক মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরাক সেনা হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেনি।
সংঘাত নিয়ন্ত্রণে মধ্যস্থতা করা কাতার এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এর ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা আরও জটিল হবে এবং এর জন্য ইরানকে পূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক দায় নিতে হবে।
এদিকে মার্কিন হামলায় হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ৫ জন নিহত এবং অন্তত ৬৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয় গণমাধ্যম। নিহতদের মধ্যে ৪ বছরের এক শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া খুজেস্তান প্রদেশে আলাদা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। ইরান এটিকে ‘বর্বর অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে চরম প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছে।
দীর্ঘদিনের এ সংঘাত দুই দেশের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। ইউএস টেক্সাস ও বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায় পৌঁছেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলে ইরানিদের সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করা যেকোনো দেশকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স