কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় সৌদি আরবের জাতীয় নৌপরিবহন সংস্থা 'বাহরি'র মালিকানাধীন একটি তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারে ইরানি সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে। সোমবার রাতের এই বিধ্বংসী হামলায় জাহাজটিতে কর্মরত দুই ফিলিপিনো নাবিক নিহত হয়েছেন। বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাবিকদের বহনে থাকা 'সিদর' নামের সুপারট্যাঙ্কারটি গত সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সৌদি তেল পরিবহনকালে এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিপর্যয় ও হামলার শিকার হয়। এটি একই রাতে আক্রান্ত হওয়া সৌদি তেল বহনকারী দুটি বৃহৎ সুপারট্যাঙ্কারের একটি। জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'বাহরি' এক বিবৃতিতে জানায়, তারা জাহাজের বর্তমান পরিস্থিতি ও নাবিকদের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাঙ্কার যেন এই সংকীর্ণ জলপথ অতিক্রম করতে না পারে, সে বিষয়ে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই কড়া অবরোধ ও সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হতো। ইরানের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে প্রতিবেশী উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি কার্যক্রম চরম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে সামরিক উত্তেজনা হ্রাস, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি জাহাজে এটিই প্রথম হামলা নয়; এর আগে গত জুলাইয়ে ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকালে 'বাহরি'র 'ওয়েদিয়ান' নামের আরেকটি সুপারট্যাঙ্কার হামলার শিকার হয়েছিল। এছাড়া লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণার পর গত জুলাই ও আগস্ট মাসেও 'মাসাহ' এবং 'আমজান' নামের দুটি সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়েছিল ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক এই প্রাণঘাতী হামলা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স