ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লাগাম টানতে সরাসরি তেহরানের ওপর গোপনে চাপ সৃষ্টি করেছে চীন। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে হুথিদের সাম্প্রতিক তীব্র সামরিক আগ্রাসনে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক জলপথ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ার পর রিয়াদ বেইজিংয়ের সহায়তা কামনা করে। এর পরপরই তিন ইরানি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চীন গোপনীয়ভাবে ইরানকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে বলেছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীন তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে থাকে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার পর যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালীও হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে বিশ্বজুড়ে এক মারাত্মক শক্তি সংকট তৈরি হবে, যা চীনা অর্থনীতিকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ইরানের জবাব ও কূটনৈতিক জটিলতা: তেহরান চীনা অনুরোধের জবাবে জানিয়েছে , এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের ওপর নির্ভর করছে। যদিও চীন কোনো অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক শাস্তির সরাসরি হুমকি দেয়নি, তবে মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যাদের ওপর অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল, তাদের স্বার্থেই এই জলপথগুলো নিরাপদ রাখা জরুরি। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে চীনের স্বার্থ বিবেচনা করা হলেও তাদের নিজস্ব কৌশলগত ও সামরিক অগ্রাধিকারগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ: গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তেলের প্রধান ক্রেতা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রফতানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি একা চীনই ক্রয় করেছে, যার পরিমাণ দৈনিক গড়ে ১৪ লাখ ব্যারেল। তা ছাড়া ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক পুনঃকূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনেও মধ্যস্থতা করেছিল বেইজিং।
তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের মুখে কোণঠাসা ইরানের কাছে চীনের অর্থনৈতিক সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে চীনের বিপুল বিনিয়োগ থাকায় বেইজিং এখানে কৌশলগত সংকটে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন কেবল আলোচনার ভেতরেই সীমিত থাকে, নাকি ইরানের ওপর তাদের অর্থনৈতিক প্রভাবকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে হুথিদের থামায়—তা দেখতে এখন পুরো বিশ্ব অপেক্ষা করছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স