ইয়েমেনের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের জরুরি আকুতি সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে ইয়েমেনে নির্ধারিত বিমান হামলা নাটকীয়ভাবে বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। জানা গেছে, মার্কিন সামরিক কমাণ্ডাররা হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তু বা টার্গেট লিস্ট ইতিমধ্যেই অনুমোদন করেছিলেন, যুদ্ধবিমানে বোমা লোড করা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বিমানগুলো উড্ডয়ন করার কথা ছিল।
ঠিক সেই একাদশে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরো সামরিক মিশনটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত দেন। অথচ এর মাত্র কয়েকদিন আগেই সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে ট্রাম্পকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন হুতিদের রুখে দিতে যুক্তরাষ্ট্র যেন সরাসরি সামরিক সহায়তা প্রদান করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দিকে ট্রাম্প সৌদি ও হুথিদের মধ্যবর্তী এই লড়াইয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে জড়াতে একদমই ইচ্ছুক ছিলেন না। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সাথে ফোনালাপের পর ট্রাম্প পেন্টাগনকে ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন।
তবে রোববার আসতে না আসতেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে পুরোপুরি সরে আসেন তিনি। হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সাথে ইতোমধ্যে চলতে থাকা যুদ্ধের দরুন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর যে চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে, সে অবস্থায় হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক ফ্রন্ট খোলাকে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের বড় একটি অংশ চরম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।
তবে হোয়াইট হাউস থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে এবং মার্কিন প্রশাসন সব সময় তাদের মিত্রদের পাশে থাকবে।
অন্যদিকে, ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন হুথিদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন সৌদি রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে একের পর এক সফল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুতিরা।
এছাড়া ইয়েমেনের ভেতরেও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর হাত থেকে একের পর এক অঞ্চল দখল করে নিচ্ছে তারা। একই সময়ে ইরানের বিষয়ে ট্রাম্প সতর্কবার্তা জারি করে বলেছেন, নিকট ভবিষ্যতে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি বিচারে তিনি ইরানকে ধ্বংস করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হবেন না।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি