ওয়াশিংটন-তেহরান চুক্তিতে বড় বাধা পারস্পরিক অবিশ্বাস!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ নিরসন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষে দোহায় কাতারী মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের ফিডব্যাক বা প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বুধবার তেহরানে ফিরে মার্কিন এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা করবেন বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

গত সপ্তাহে ইরান একটি সাত দিনের বিশ্বাস পুনর্গঠনমূলক প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল, যেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি উল্লেখ করেছিলেন, প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ হলে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরিয়ে আনা হবে।  মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস শান্তি আলোচনার পথে প্রধান বাধা। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর কাতার নতুন করে মধ্যস্থতায় নামে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে ফেরার পথে সোমবার কাতারী প্রতিনিধিদল দোহায় আরাগচি ও তাঁর দলের কাছে ওয়াশিংটনের লিখিত প্রতিক্রিয়া পৌঁছে দেয়।

প্রস্তাবিত এই নথিতে মূলত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের একটি উন্নত সংস্করণ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির মূল বিষয়বস্তু বা উপাদান নিয়ে দুই দেশের নীতিগত আপত্তি না থাকলেও প্রধান বিরোধ বা জটিলতা দেখা দিয়েছে পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়নের সময়ক্রম বা ‘সিকোয়েন্সিং’ নিয়ে, অর্থাৎ কোন দেশ আগে পদক্ষেপ নেবে।

কাতার দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান চালিয়ে আসছে, যার উদ্দেশ্য হলো সংঘাতের চূড়ান্ত অবসান ঘটানো। জুনের সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি অর্জিত হয়েছিল এবং এর মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছিল। এখন কোন ধাপে কে প্রথম ছাড় দেবে, সেই জটিল সমাধান মিললেই এগোতে পারে বহুল কাঙ্ক্ষিত শান্তি আলোচনা।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স