রীতিমতো অবিশ্বাস্য ঘটনা! মরুর দেশ হিসাবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজার শিষ ও ওয়াদি আল হেলোসহ বিভিন্ন স্থানে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের পর আকস্মিক বন্যার (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।
বুধবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণের কারণে নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়ি উপত্যকাগুলোতে দ্রুত পানি জমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সাধারণ নাগরিক এবং গাড়িচালকদের বন্যাপ্রবণ এলাকা থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আমিরাতের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) জানায়, বুধবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই বিশেষ সতর্কবার্তা কার্যকর রাখা হয়। মূলত দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে হঠাৎ পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়ার আশঙ্কা থেকেই এই আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল।
আবহাওয়া পূর্বাভাসের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ‘স্টর্ম সেন্টার’-এর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দেশটির ফুজাইরাহ অঞ্চলেও প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এছাড়া শারজার শিষ এলাকার ভিডিও ফুটেজে পাহাড় ও খেজুর গাছের পটভূমিতে ভেজা রাস্তা, কমে যাওয়া দৃষ্টিসীমা (ভিজিবিলিটি) এবং এর মধ্যেই গাড়ি চলাচলের দৃশ্য দেখা গেছে।
দেশটির আবহাওয়া সংস্থা বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বৃষ্টির সময় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে আকস্মিক প্লাবনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো থেকে দূরে থাকুন।
এনসিএম জানায়, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের মেঘলা আবহাওয়া থেকে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে মেঘের আশপাশে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে মরু এলাকায় ধূলোঝড় সৃষ্টি হয়ে দৃশ্যমানতা আরও কমিয়ে দিতে পারে।
এর আগে মঙ্গলবার দেশটির ফুজাইরাহ ও রাস আল খাইমাহর বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণের পাশাপাশি শিলাবৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এনসিএম-এর হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার শাওকা এলাকায় ২১.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়া আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার দেশটির পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শুক্রবার এবং শনিবারেও পূর্বাঞ্চলীয় কিছু এলাকায় বর্ষণ হতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির ট্রাফিক ও জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ গাড়িচালকদের সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো, পিচ্ছিল রাস্তায় গতি কমানো এবং পাহাড়ি ঢল ও ওয়াদি (পাহাড়ি উপত্যকা) এড়িয়ে চলার জোরালো পরামর্শ দিয়েছে।