ভারতের নির্বাচনে অন্যতম জনপ্রিয় কথা হলো-উত্তরপ্রদেশ যার দখলে, দিল্লির মসনদ সেই দলের। হিন্দুত্ববাদকে রাজনীতির ময়দানে নামিয়ে গত দুইবারের নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার আসল জায়গা ছিলো উত্তরপ্রদেশ। কিন্তু এবার দিন পাল্টেছে। উত্তরপ্রদেশেই বিজেপি জনপ্রিয়তায় নেমেছে ধস।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়াটুডের হিসাবে, রাজ্যের ৮০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট এগিয়ে রয়েছে ৪০ আসনে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে ৩৯টিতে। একটিতে এগিয়ে আলএলডি।
অথচ গত দুই নির্বাচনে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের ৮০ আসনের মধ্যে ৭৩টিতে জিতেছিল এনডিএ জোট, বিজেপি সেবার একাই পেয়েছিল ৭১ আসন। ২০১৯ সালের নির্বাচনেও এনডিএ ৬৩ আসন পায়, বিজেপি পায় ৬১টি।
ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগেই ইন্ডিয়া জোটের উত্তরপ্রদেশ দখলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। যা ঘিরে পদ্ম শিবিরেও চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
গতবারের নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে গান্ধী পরিবারের আসন হিসেবে পরিচিত আমেথিতে বিজেপির স্মৃতি ইরানির কাছে বিপুল ব্যবধানে হারে রাহুল গান্ধী। শুধু রায়বরেলিতে সোনিয়া গান্ধী ছাড়া আর কোনো আসনে জিতেই পারেনি কংগ্রেস।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আজকাল লিখেছে, চলতি বছরে ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল, একা রামলালাই ভোটের হাওয়া ঘুরিয়ে দেবেন। চার জুন লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনার দিনটা অবশ্য উল্টো কথাই বলছে।
বিকেল চারটে পর্যন্ত রাউন্ড যত এগোচ্ছে, ততই কপালে ভাঁজ পড়েছে মোদি থেকে যোগীর। এনডিএ জোটকে পিছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে গেছে ইন্ডিয়া জোট। গুরুত্বপূর্ণ আসন এখনও পর্যন্ত ইন্ডিয়া এবং কংগ্রেসের দখলেই।
সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, ফৈজাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের অযোধ্যায় তৈরি হয়েছে রাম মন্দির। সেই কেন্দ্রেই ধরাশায়ী বিজেপি। সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী অবধেশ প্রসাদের থেকে ২০ হাজার ২৭৯ ভোটে পিছিয়ে বিজেপির লাল্লু সিং।
অন্যদিকে আমেথিতে স্মৃতি ইরানি, মানেকা গান্ধীর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা পিছিয়ে আছেন। বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, ডিম্পল যাবদরা।