তৃণমূলের দুর্দিনের মমতার পাশে কারা দাঁড়িয়ে?

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজয়ের মাত্র এক মাসের মধ্যেই কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত মঙ্গলবার কলকাতার রাস্তায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচিতে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ৮ জন এবং ৪১ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে মাত্র ছয় জন উপস্থিত ছিলেন। আর এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা পরেই, বুধবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৬০ জন বিধায়ক সরাসরি মমতার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।

ৱএই গণ-বিদ্রোহের পর রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই বড় প্রশ্ন- তৃণমূলের এই চরম দুর্দিনে শেষ পর্যন্ত কারা দাঁড়িয়ে আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে?

মঙ্গলবার ধর্মতলার রাজপথে মমতার প্রথম প্রতিবাদ মিছিলে যে আটজন বিধায়ককে তাঁর পাশে দেখা গেছে, তাঁরা হলেন, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব এবং অসীমা পাত্র।


আর সাংসদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শুধু ডেরেক ও'ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, সামিরুল ইসলাম, মেনকা গুরুস্বামী এবং নাদিমুল হক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, লোকসভার একমাত্র সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া বাকি পাঁচজনই রাজ্যসভার সাংসদ।

মমতা শিবিরের এই বিশ্বস্ত নেতাদের সিংহভাগই ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে তাঁর ছায়াসঙ্গী। এর মধ্যে ফিরহাদ হাকিম ইতিমধ্যেই কলকাতার মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য মমতার অনুমতি নিয়েছেন বলে জানা গেছে। কলকাতা বন্দর আসন থেকে পুনর্নির্বাচিত হওয়া ফিরহাদ অতীতে নগরোন্নয়ন, পুরবিষয়ক, আবাসন এবং পরিবহণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলেছেন। তাঁকে বিধানসভায় তৃণমূলের 'চিফ হুইপ' করা হলেও বিদ্রোহী বিধায়কেরা তা মানতে নারাজ।

অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় হলেন বাংলার একমাত্র বিধায়ক যিনি টানা ১০ বার বিধানসভা নির্বাচনে জিতে রেকর্ড গড়েছেন। ১৯৯৮ সালের একটি উপ-নির্বাচনে তিনিই ছিলেন তৃণমূলের প্রতীকে জেতা প্রথম বিধায়ক। তিনি কৃষি, সংসদীয় বিষয় এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের মতো একাধিক মন্ত্রনালয় সামলেছেন। এছাড়া বজবজের সাতবারের বিধায়ক অশোক দেবও ১৯৯৬ সাল থেকে নিজের আসন ধরে রেখে মমতার প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন।


বুধবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের কাছে ৬০ জন তৃণমূল বিধায়ক যখন লিখিতভাবে শোভনদেবের পরিবর্তে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থনের কথা জানান, তখনই তৃণমূলের এই আড়াআড়ি বিভাজন জনসমক্ষে চলে আসে।

তবে, বিদ্রোহীরা একটি বিষয়ে অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন; শিউলি সাহার মতো বিদ্রোহী বিধায়কদের স্পষ্ট বক্তব্য, মমতাদিকে বুঝতে হবে যে আমরা তাঁর সাথেই আছি। আমরাই আসল তৃণমূল। কিন্তু যেভাবে আলোচনা ছাড়াই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম স্পিকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুল ছিল। দল কখনো কোনো একজন ব্যক্তির খামখেয়ালিপনা বা ইচ্ছায় চলতে পারে না। আমি কার কথা বলছি, তা আপনারা ভালো করেই জানেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিধায়কদের এই ক্ষোভের তির আসলে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে।

বিদ্রোহীদের এই পদক্ষেপকে ঘরের শত্রু বিভীষণ আখ্যা দিয়ে সরব হয়েছেন মমতা শিবিরের কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, বিদ্রোহী বিধায়কদের যদি কোনো ক্ষোভ থাকত, তবে তা দলের অন্দরেই তোলা উচিত ছিল। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আজ যারা ঋতব্রতের পক্ষে সই করেছেন, তাঁদের অনেকেই প্রথমে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দলিলেও সই করেছিলেন।


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এক প্রবীণ লোকসভা সংসদ সদস্য আক্ষেপ করে জানান, এই ঘটনা শুধু যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ তা নয়, এটি মমতার নেতৃত্বের অবমাননা ও অবাধ্যতা। এর থেকে প্রমাণিত হয়, বেশিরভাগ বিধায়ক এখন আর শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে নেই।

তৃণমূলের ভেতরের সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শুধু বিধানসভা নয়, সংসদের লোকসভা ও রাজ্যসভা দলেও এই একই ধরণের ভাঙন ধরার আশঙ্কা এখন তীব্র। ইতিমধ্যেই বারাসতের বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দলীয় সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া এবং দলের দিকে আঙুল তোলার ঘটনা সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিয়েছে। সব মিলিয়ে, নিজের তৈরি করা দলেই এখন কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বাংলার অগ্নিকন্যা।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এআরএস
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখলেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের আসল নজর এখন তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ সদস্যের বিধায়ক দলের অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র ফাটলের...
দলের অভ্যন্তরে তীব্র ফাটল আর রাজনৈতিক ডামাডোলের আবহেই মঙ্গলবার কলকাতার রাজপথে নেমে সরাসরি বিজেপিকে উৎখাতের ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে স্বভাবসিদ্ধ...
বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যটির বিজেপি সরকার।
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের পুলিশ এবং রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সকে (আরপিএফ) এক নজিরবিহীন ও কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যটিতে আটক...
রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
ভারতের নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার একটি হোটেলে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন বৈরি ও নজিরবিহীন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি। স্বাগতিক একটি দেশের সাথেই নিজের দেশ লড়ছে এক রক্তক্ষয়ী ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে, ঠিক এমন এক চরম মানসিক চাপ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার বুক...
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ এখন এক জটিল রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়ানোর পাশাপাশি একে অপরের ওপর সর্বোচ্চ চাপ...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর