আসামে ভয়াবহ বন্যায় ২৭ জেলার মানুষ পানিবন্দি

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য আসামে ভয়াবহ বন্যায় বুধবার আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা ৫৬ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যটির ৩৫টি জেলার মধ্যে ২৭টির ২ হাজার ৮০০টি গ্রাম বন্যাকবলিত। ফলে ওইসব এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ১৬ লাখ ২৫ হাজার মানুষ।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তাসংস্থা পিটিআই বৃহস্পতিবারে এ খবর জানায়। বন্যায় রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় অনেক জেলা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৮ হাজার ৩৭৭ জনকে উদ্ধার করেছেন।

টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় আসামের ৪২ হাজার ৪৭৬ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিন লাখ ৮৭ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাঁধ, সড়ক, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়েছে।

assam_rescue

আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) সোনিতপুর জেলায় দুই মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছে। এছাড়া মরিগাঁও, ডিব্রুগড়, দারাং, গোলাঘাট, বিশ্বনাথ এবং তিনসুকিয়া জেলায় একজন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া’র।

আসামের কিছু অংশে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও ব্রহ্মপুত্র ও বরাক এবং তাদের উপনদীর পানির স্তর বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

আসাম এবং মণিপুর উভয় জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে এবং ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) এ সপ্তাহে সমস্ত উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।

monipur_flood

সেনাবাহিনী, আসাম রাইফেলস, রাজ্য পুলিশ, মণিপুর ফায়ার সার্ভিস, এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ কর্মীরা এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা নৌকা দিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষকে উদ্ধার করার পাশাপাশি পানির বোতল এবং খাবারের প্যাকেট বিতরণ করছে।

১০৫ রাজস্ব সার্কেলের অধীনে দুই হাজার ৮০০ গ্রাম এখনও পানির নিচে এবং বন্যার পানিতে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। প্রায় চার লাখ মানুষ ২৪টি বন্যা কবলিত জেলায় প্রশাসন কর্তৃক স্থাপিত ৫১৫টি ত্রাণ শিবির ও বিতরণ কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

আসাম এবং মণিপুরে আরও জনবল, নৌকা এবং জীবন রক্ষাকারী উপকরণ সরবরাহ করে বন্যা কবলিত রাজ্যগুলোতে পূর্ণ সহায়তা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।