ভারতের আসাম রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হ্যাটট্রিক জয়ের পর রাজ্যে কোনো ধরনের ‘ঘৃণা ভাষণ’ দেয়ার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ১২৬ আসনের বিধানসভায় বিজেপি একাই ৮২টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার একদিন পর তিনি দাবি করেন, তার নির্বাচনী প্রচারণায় বিভেদ নয়, বরং আসামের মানুষের আত্মপরিচয় রক্ষার আর্তি প্রতিফলিত হয়েছে।
এনডিটিভি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আসামে কোনো ঘৃণা ভাষণ দেওয়া হয়নি। আমি যা বলি, তা সব সময় চিন্তা-ভাবনা করেই বলি এবং নিজের বক্তব্যের ওপর আমি অটল থাকি। আমার কোনো কথা থেকে পিছু হটার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি মনে করেন, আসামের বাস্তবতাকে না বুঝে অনেকেই তার বক্তব্যকে নেতিবাচকভাবে বিচার করেন।

নির্বাচনী জয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আসামের জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আসামের মানুষ বর্তমানে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। দ্রুত জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটছে; এবারের আদমশুমারিতে আসামে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ শতাংশ স্পর্শ করবে। ইতিমধ্যে ১২-১৩টি জেলায় আমরা (আদি নিবাসী) সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছি। তার মতে, মূলত এই ভীতি ও সংশয় থেকেই মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।
হিমন্ত শর্মা এই জয়কে শুধু একটি দলীয় বিজয় হিসেবে দেখতে নারাজ। তার মতে, এটি আসামের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জনজাতি রক্ষার নিরন্তর সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি উল্লেখ করেন, তার সরকার আসাম চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদি নিবাসী জনগণের সাংবিধানিক সুরক্ষায় ‘বিচারপতি বিপ্লব শর্মা কমিটি’র সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলেই অসমীয়া মানুষ সোমবার জয়ী হতে পেরেছে।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিজেপির ৮২ আসনের বিপরীতে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পেয়েছে ১৯টি আসন। কংগ্রেসের নেতৃত্বে থাকা ছয় দলীয় জোটের অন্য শরিকদের মধ্যে অখিল গগৈয়ের রাইজর দল পেয়েছে দুটি আসন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এনডিএ জোট এবার নতুন প্রজন্মের ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে, যা বিজেপির তরুণ প্রার্থীদের বিজয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।
সবশেষে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আসামের মানুষের আত্মপরিচয় রক্ষা করাই তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এবং এই বিজয় সেই লড়াইকে আরও বেগবান করবে।
