পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় বিদেশি কূটনীতিকদের গাড়িবহরে বোমা হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত ও আরও চারজন আহত হয়েছেন। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রোববারের এ বোমা হামলার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)।
ওই গাড়িবহরে ১২টি দেশের কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনেরা ছিলেন। তারা মালাম জাব্বা থেকে ইসলামাবাদে ফিরছিলেন। সেইসময় তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও পররাষ্ট্র কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ডন।
সোয়াত জেলা পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদুল্লাহ খান জানান, কনভয়ের নেতৃত্বে থাকা পুলিশ স্কোয়াডের গাড়িটিতে রিমোটের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে, সব কূটনীতিক নিরাপদ রয়েছেন। তারা ইসলামাবাদ চেম্বার অব কমার্সের আমন্ত্রণে সোয়াতে যান বলে এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মুহাম্মদ আলি খান জানান, এসব কূটনীতিকেরা ইন্দোনেশিয়া, পর্তুগাল, কাজাখস্তান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, জিম্বাবুয়ে, রুয়ান্ডা, তুর্কমিনিস্তান, ভিয়েতনাম, ইরান, রাশিয়া এবং তাজিকিস্তান থেকে এসেছেন।
এদিকে, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিদেশি কূটনীতিকদের গাড়ি বহরে বোমা হামলার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সোমবার এক বিবৃতিতে টিটিপির মুখপাত্র মোহাম্মদ খোরাসানি বলেছেন, এই হামলার সাথে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে আফগানিস্তানের সীমানায় অবস্থিত সোয়াত উপত্যকায় আগে পাকিস্তানি তালেবানদের ঘাঁটি ছিল। কূটনীতিকদের গাড়িবহরটি মালাম জাব্বা নামে একটি হিল স্টেশন ও স্কি রিসোর্টের দিকে যাওয়ার সময় বহরের একটি গাড়িতে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। হামলার পেছনে কারা রয়েছে তা নির্ধারণ করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হামলাটি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁক থাকার ইঙ্গিত দেয়- উল্লেখ করে ইসলামাবাদ ভিত্তিক পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আব্দুল্লাহ খান বলেন, নিঃসন্দেহে নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল। কারণ গাড়িবহরের রুট শুধু পুলিশ জানত। এছাড়া বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট রুটটি পরিষ্কার করেছিল বলে জানিয়েছে। সম্ভবত কিছু অভ্যন্তরীণ ব্যক্তি তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনার তথ্য বিদ্রোহীদের কাছে ফাঁস করেছে বলে মনে করেন তিনি।