বিয়ের সানাই বাজছিল ঠিকঠাক, কাজিও কবুল পড়িয়ে দিয়েছিলেন অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। কিন্তু আসল টুইস্টটা জমা ছিল দুপুরের খাবারের টেবিলের জন্য! পাতে খাসির মাংসের বদলে কেন মুরগির মাংস পরিবেশন করা হলো- শুধুমাত্র এই এক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে বর ও কনেপক্ষের মধ্যে বেঁধে গেল রক্তক্ষয়ী মহাযুদ্ধ। লাঠিসোঁটা তো দূর, তলোয়ার উঁচিয়ে বরযাত্রীদের তাড়া করার মতো সিনেমাটিক মারামারিতে শেষমেশ দুই পক্ষের কমপক্ষে ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিচিত্র ও রোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার, ভারতের বিহার রাজ্যের সাহারসা জেলার সিমরি বখতিয়ারপুর শহরে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে মোহাম্মদ আনোয়ারের ছেলে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ওরফে চাঁদের সঙ্গে মোহাম্মদ জাভেদ ওরফে মোটোর মেয়ের বিয়ে ধুমধাম করে হয়। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে বিয়ের পরপরই, যখন বরযাত্রীরা রাজকীয় ভঙ্গিতে দুপুরের খাবার খেতে বসেন।
বরের স্বজনদের দাবি, বিয়ের মেনুতে তাঁদের জন্য খাসির মাংস (মাটন) দেওয়ার পাক্কা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কনেপক্ষ। কিন্তু রসনাতৃপ্তি করতে বসে পাতে কেবল মুরগির মাংস (চিকেন) দেখেই বরযাত্রীদের মাথা গরম হয়ে যায়। কনেপক্ষের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ নিয়ে বরযাত্রীদের কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করতেই কনেপক্ষের লোকজনও তেরে আসেন। ব্যস! প্রথমে মুখের কথা, তারপর হাতাহাতি এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো বিয়ের মণ্ডপ রূপ নেয় এক রণক্ষেত্রে।
পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, কনেপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বরযাত্রীদের ওপর চড়াও হয় এবং ব্যাপক মারধর শুরু করে। ইতিমধ্যে এই মারামারির বেশ কয়েকটি ‘হাড়হিম করা’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি শুধু লাঠিই নয়, রীতিমতো চকচকে তলোয়ার উঁচিয়ে অতিথিদের তাড়া করছেন!
এই তুমুল সংঘর্ষে গুরুতর আহত ১২ জনকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে সিমরি বখতিয়ারপুরের মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় থানা-পুলিশের একটি বিশাল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, খাবারের মেনু নিয়ে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই লঙ্কাকাণ্ডের সূত্রপাত। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং বিয়ের আসরে তলোয়ারবাজি ও অশান্তি সৃষ্টির দায়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কনেপক্ষ খাসির মাংসের বদলে মুরগি দিয়ে খরচ বাঁচাতে চেয়েছিল কি না তা জানা যায়নি, তবে এই ‘চিকেন বিরিয়ানি’র চক্করে বর-কনে উভয়েরই বাসর রাতের বারোটা বেজে গেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!