দেশজুড়ে অব্যাহত ছাত্র আন্দোলন ও তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন ভারতের শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর পদত্যাগপত্র অবিলম্বে কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেছেন।
একইসঙ্গে বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রলহাদ জোশীকে তাঁর বিদ্যমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
ভারতীয় রাষ্ট্রপতি ভবনের এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ৭৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কর্ণাটকের ধারওয়াদ কেন্দ্রের লোকসভা সংসদ সদস্য ও ক্যাবিনেট মন্ত্রী প্রলহাদ জোশীকে নিজ পোর্টফোলিওর পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছে।
প্রলহাদ বর্তমানে ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ এবং নতুন ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক সৌর জোটের (আইএসএ) সভাপতি পদেও রয়েছেন।
নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন চরম রূপ নিলে ধর্মেন্দ্র প্রধান এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের স্বার্থরক্ষা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম কেন্দ্রিক এই আন্দোলন যেন কোনো ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে কোনো জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর রাজপথে আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করার ঘটনা বিরল।
শিক্ষামন্ত্রীর এই পদত্যাগের খবর আসে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের তৃতীয় দফার বৈঠকের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে। এই ছাত্র আন্দোলনের প্রধানতম দাবিই ছিল শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ, যা সিজেপি নেতৃত্বের মতে ছিল ‘অকষনীয়’।
দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সাথে সফল আলোচনার পর সিজেপি তাদের দীর্ঘ ৩৭ দিনের আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি’র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকারের দেওয়া আশ্বাস ও সম্মত শর্তাবলী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে, এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করছি।
একই সাথে নতুন শিক্ষা মন্ত্রীকে সতর্ক বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, যুবসমাজ স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চায়, যিনিই শিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিন না কেন, যদি শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলোর সমাধান না হয়, তবে তারা আবারও জন্তর মন্তরে ফিরে এসে সরকারের কাছ থেকে জবাবদিহি আদায় করে নেবে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে