ভারতে নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দেশব্যাপী টানা ছাত্র বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর, কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং কংগ্রেস এমপি রাহুল গান্ধী এই পদত্যাগকে শিক্ষার্থীদের বড় জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় জরুরি ও কার্যকর সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একতায় প্রধানমন্ত্রীর জেদ হেরে গেছে বলেও উল্লেখ করেছে কংগ্রেস।
এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধান পদত্যাগ করেছেন, ভালো কথা। তবে এখন সরকারকে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক পরিবর্তনের জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আরএসএস ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দখল করে উইপোকার মতো ধ্বংস করছে। তার মতে, ছাত্র আন্দোলনের চাপে সরকার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলেও আন্দোলন এখনও শেষ হয়নি।

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং এআইসিসি’র সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ স্পষ্ট করেছেন যে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহারের মতো পুলিশি বর্বরতার তদন্ত করতে হবে। দোষী পুলিশ ও নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রীকে দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এটিকে অহংকারের বিরুদ্ধে যুব সমাজের জয় বলে বর্ণনা করেছেন। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা জানান, দেশের যুবসমাজ স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে তাদের অধিকার ছিনিয়ে আনতে শুরু করেছে। লোকসভায় কংগ্রেসের উপনেতা গৌরব গগৈ সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় পাশ হওয়া অ্যান্টি-পেপার লিক বিলের প্রসঙ্গ টেনে জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার সামগ্রিক সংস্কারের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুলিশি বাধা ও ভয় দেখানোর রাজনীতি বন্ধ করা উচিত।

সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব বলেন, এই আন্দোলন থেকে সরকারের শিক্ষা নেয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়। এটি সম্পূর্ণভাবে অরাজনৈতিক ছাত্র সমাজ ও যুবশক্তির ঐতিহাসিক জয়। রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, নিজের কণ্ঠ শুনতে ভালোবাসেন এমন প্রধানমন্ত্রীকে শেষ পর্যন্ত ভারতের তরুণ প্রজন্ম তাদের কথা শুনতে বাধ্য করেছে।
আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিষয়টিকে গণতন্ত্রের বড় জয় বলে অভিহিত করেন। তিনি প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ছাত্র সমাজের এই ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ সরকারের অহংকার ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। সংসদীয় কৌশল ও পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বিরোধী সাংসদরা জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয় এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরকার কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা পর্যবেক্ষণ করে জোটসঙ্গীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সংসদীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
