বিশ্ব ব্যাঘ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত সর্বশেষ জাতীয় বাঘ শুমারির তথ্য অনুযায়ী, নেপালে সংকটাপন্ন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৪২৯টিতে পৌঁছেছে। বুধবার কাঠমাণ্ডুতে কৃষি, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী গীতা চৌধুরীর উপস্থিতিতে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে দেশটির জাতীয় উদ্যান ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ।
সংরক্ষণাঞ্চলের এই ইতিবাচক অগ্রগতিতে দারুণ উচ্ছ্বসিত পরিবেশবিদরা। জাতীয় উদ্যান ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য কর্মকর্তা হরিভদ্র আচার্য জানান, একটি জাতীয় উদ্যান ব্যতীত দেশের প্রায় প্রতিটি উদ্যান ও বনাঞ্চলেই বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত আধুনিক ক্যামেরা ট্র্যাপ পদ্ধতির মাধ্যমে পুরো নেপালজুড়ে এই শুমারি চালানো হয়।
সর্বশেষ শুমারির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে পার্সা জাতীয় উদ্যানে। ২০২২ সালের শুমারিতে যেখানে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪১টি, এবার তা লাফিয়ে পৌঁছেছে ৭১টিতে। এছাড়া বাঁকে জাতীয় উদ্যানে ২৫টি থেকে বেড়ে ৫১টি এবং শুক্লাফাটা জাতীয় উদ্যানে ৩৬টি থেকে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০টিতে।
নেপালের সর্ববৃহৎ বাঘের বাসস্থান চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকায় বাঘের সংখ্যা ১২৮টি থেকে বেড়ে ১৪৫টিতে দাঁড়িয়েছে। বিগত দুই দশকে চিতওয়ানে বাঘের সংখ্যায় বেশ ওঠানামা দেখা গেছে; ২০০০ সালের দিকে যেখানে প্রায় ৬০টি বাঘ ছিল, তা ২০০৯ সালে ৯১টি এবং ২০১৩ সালে ১২০টিতে পৌঁছেছিল। তবে ২০১৮ সালের শুমারিতে তা কমে ৯৩টিতে নেমে এসেছিল।
অন্যদিকে, একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে বার্দিয়া জাতীয় উদ্যানে বাঘের সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আগের শুমারিতে সেখানে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি থাকলেও এবার তা কমে ১১২টিতে নেমে এসেছে। তবে তা সত্ত্বেও নেপালে বাঘের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাসস্থল হিসেবে অক্ষুণ্ণ রয়েছে উদ্যানটি।
এর আগে ২০২২ সালের জাতীয় শুমারিতে নেপালে মোট ৩৫৫টি বাঘের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছিল। নতুন হিসাব অনুযায়ী, গত চার বছরে দেশটিতে বাঘের সংখ্যা এক লাফে ৭৪টি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তথ্যসূত্র: কাঠমাণ্ডু পোস্ট