চিকিৎসা প্রবেশিকা ‘নিট’ পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াত। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষাকে ‘অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও নর্দমার সমতুল্য’ বলে আখ্যা দেন তিনি।
তবে কঙ্গনার এমন মন্তব্যের পর তার তীব্র বিরোধিতা করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান মুখপাত্র ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক সৌরভ দাস। আর, তাতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বাক্যবাণ চরম আকার ধারণ করেছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমর্থনে সৌরভ দাস বলেন, কঙ্গনা রানাওয়াতকে তার নিজের দলের লোকজনই গুরুত্ব দেয় না, তাই অন্য কারোর তাকে সিরিয়াসলি নেয়ার প্রয়োজন নেই। জেন-জি বা জেন-আলফা প্রজন্মের কেউই তার কথা শোনে না। একইসাথে হিমাচল প্রদেশের নিজ কেন্দ্রে কঙ্গনার সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, সংসদ সদস্য পদটি যে এত খাটাখাটুনির কাজ তা নাকি কঙ্গনা আগে বুঝতেই পারেননি, যা তার দায়িত্ববোধের অভাবকেই প্রকাশ করে।
সৌরভ দাসের এই আক্রমণের জবাবে ৪০ বছর বয়সী কঙ্গনা রানাওয়াত তার জাতীয় পুরস্কারের ফিরিস্তি তুলে ধরে কড়া জবাব দেন। তিনি লেখেন, সৌরভের বয়স যখন ২৮, তখন আমার ঝুলিতে দুটো জাতীয় পুরস্কার ছিল। আমি বিগত ২০ বছর ধরে বিনোদন ও পাবলিক লাইফে আছি এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেত্রী, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছি। আমার মতো ব্যস্ত ও চাহিদাসম্পন্ন মানুষের কাজের চাপ তার মতো বেকার ও অকেজো মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।

সিজেপি মুখপাত্রকে খোঁচা দিয়ে কঙ্গনা আরও উপদেশ দেন, প্রিয় সৌরভ, আপনার সমস্যাগুলো সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। আপনি কোনো শিক্ষার্থী নন, আপনি স্রেফ একজন বেকার। কোনো কাজের দক্ষতা বা স্কিল শেখা দিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করুন, সেটিই আপনার জন্য ভালো হবে।
উল্লেখ্য, বিতর্কিত এই 'নিট' প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ও শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভের জেরে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সপ্তাহান্তে পদত্যাগ করার পর আন্দোলন স্থগিত করা হলেও, কঙ্গনা ও সৌরভের মধ্যকার এই কথার লড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
