অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিতে অটল রাহুল গান্ধী

দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ ও ক্র্যাকডাউনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতি এখন উত্তাল। এই ইস্যুতে টানা উত্তেজনার পর অবশেষে মুখ খুলেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিরোধী শিবিরের টানা আক্রমণের মুখে তিনি লোকসভায় সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি বিরোধী দলের সব প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দিতে প্রস্তুত।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আলোচনার প্রস্তাব ক্ষ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের যুবসমাজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা শুনতে চায় না, তাঁর একমাত্র পথ পদত্যাগ করা।

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের পর থেকেই বিরোধী দলগুলোর প্রধান নিশানায় রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। লোকসভায় তাঁকে নিয়ে ‘ভাগোড়া’ (পলাতক) ও ‘লাপাতা’ (নিখোঁজ)-এর মতো কটূক্তি করার কড়া জবাব দিয়ে অমিত শাহ বিরোধীদের আলোচনার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।

Amit Shah and Rahul Gandhi 2
তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন সংসদে আসি এবং নিজের চেম্বারে বসি। বিরোধীরা হট্টগোল করে সংসদ অচল করে রাখায় আমি কক্ষে প্রবেশ করি না। আমি কোনো আলোচনা থেকে পালাচ্ছি না। আসুন, আজ দুপুর ৩টা থেকেই সংসদীয় বিধিমালা মেনে শিক্ষার্থীদের ইস্যুতে আলোচনা শুরু করা যাক। আমি পুরো সময় কক্ষে বসে থাকব এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় সব প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দেব।

বিরোধীদের অনড় অবস্থান ও আগে বক্তব্য রাখার দাবির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদ পরিচালনার নিজস্ব কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। কোনো বড় বা স্পর্শকাতর বিষয়ে হুট করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একক বিবৃতি দিতে পারেন না; আগে নিয়ম মেনে বিতর্ক বা আলোচনা হতে হবে, যার শেষে তিনি পূর্ণাঙ্গ জবাব দেবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এই চ্যালেঞ্জের পর মিনিটের মধ্যেই তা নাকচ করে দেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লির রাস্তায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লবণের গুলি (পেলট গান) চালানো এবং লাঠিচার্জের আদেশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর দায় চাপান।

Amit Shah and Rahul Gandhi
রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ও লাঠিচার্জের নির্দেশ কে দিয়েছিল? দিল্লি পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। যদি অমিত শাহ এই নির্দেশে সম্মতি দিয়ে থাকেন, তবে তিনি সমান অপরাধী। আর যদি তিনি নির্দেশ না দিয়ে থাকেন, তবে তিনি নিজের দায়িত্ব পালনে অযোগ্য। উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর একমাত্র করণীয় হলো অবিলম্বে পদত্যাগ করা।

সরকারকে ভীতু ও জওয়াবদিহিতাহীন আখ্যা দিয়ে রাহুল গান্ধী আরও যোগ করেন, দেশের যুবসমাজ আজ চরম ক্ষুব্ধ। তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফাঁকা বুলি বা কোনো সাফাই শুনতে চায় না। তারা শুধু চায় এই অন্যায়ের উপযুক্ত বিচার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই দিল্লিতে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় রাজনীতিতে এই উত্তাপের সৃষ্টি হয়। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হয়ে বিরোধী দলগুলো প্রতিনিয়ত সংসদ অচল করে রেখেছে, যার ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে অচলাবস্থা আরও গভীর রূপ নিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি