দীর্ঘ ৯ মাসের বিরতির পর অবশেষে স্ত্রী বুশরা বিবি ও বোন নোরিন নিয়াজির সাথে দেখার সুযোগ পেলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান।
শারীরিক অবস্থার অবনতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের পর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সপ্তাহে এক দিন পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দিলে মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে এই বহুল চর্চিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৩ সাল থেকে একাধিক মামলায় কারাবন্দি ৭২ বছর বয়সী ইমরান খান বর্তমানে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
কারাগার সূত্র ও পাকিস্তানের দ্য ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে এই প্রথম ইমরান খানের বোন নোরিন নিয়াজি তাঁর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান।
জেলের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি স্থায়ী হয় মাত্র ১৫ মিনিট। সাক্ষাৎকালে নোরিন তাঁর ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক তাঁকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ইসলামাবাদের শাফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের আদেশের বিষয়টি জানান।
অন্যদিকে, আদিয়ালা জেলেই আলাদাভাবে বন্দি থাকা স্ত্রী বুশরা বিবির সাথে ইমরান খানের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট কথা হয়। এছাড়া বুশরা বিবির সাথে তাঁর প্রথম সংসারের সন্তান মুসা ও মুবাশশারা মানেকা এবং ননদ মেহরুন্নিসার প্রায় ৪০ মিনিটের একটি আলাদা সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
তবে শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, এই পারিবারিক সাক্ষাৎকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। তেমনটি করা হলে এই সুবিধার আদেশ বাতিল করা হবে বলে সতর্ক করা হয়। এ কারণে পরিবারের অন্য দুই বোন আলীমা খান ও উজমা খান, কাজিন কাসিম জামান কিংবা পিটিআই’র কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে ইমরানের সাথে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়নি।
সাক্ষাতের পাশাপাশি শীর্ষ আদালত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, ইমরান খানকে যেন দ্রুত চিকিৎসার জন্য শাফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং আগামী ১৬ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানেই রেখে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। উক্ত তারিখে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার বিষয়ে শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট।
সূত্র: এনডিটিভি