মমতা-কেজরিসহ পাঁচ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী আটক!

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক নজিরবিহীন পুলিশি ধরপাকড় ও ল্যাভেলের লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং ছাত্রসংগঠন এআইএসএ’র পূর্বঘোষিত যন্তর মন্তর ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো দিল্লি কার্যত একটি দুর্গে পরিণত হয়েছে। অনুমতি না থাকায় পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর ১৪ হাজারেরও বেশি সদস্য মাঠে নামায় এবং শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা জারি করায় পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।

শনিবার সকাল থেকে চলা এই অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার পিনারাই বিজয়ন, ত্রিপুরার মানিক সরকারসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

CJP Leader Arrest 5
বিমান থেকে সিজেপি নেতাদের আটক ও ধ্রুব রাঠি গ্রেপ্তার

বিক্ষোভ দমনে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেয় দিল্লি পুলিশ। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে বিমানযোগে দিল্লিতে অবতরণ করার ঠিক পরপরই রানওয়ে বা বিমানটির ভেতর থেকে তাদের নাটকীয়ভাবে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটকের মুহূর্তে অভিজিৎ দীপকে ইনস্টাগ্রামে লাইভ করে প্রতিবাদ জানান।

এছাড়া এই আন্দোলনে সংহতি জানানো জনপ্রিয় ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠিকে গুরুগ্রামের নিজ বাসভবন থেকে ৫০ জন পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে মুম্বাইতে সিজেপির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতির সময় মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র ও ‘হাম ভারত কে লগ’ সংগঠনের সভাপতি তুষার গান্ধীকেও পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

Delhi Protest 01
চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ হেভিওয়েট নেতাদের আটক

যন্তর মন্তরের দিকে জনস্রোত ঠেকাতে দিল্লির প্রায় ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা হয় এবং ২৫টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়। এতকিছুর মধ্যেও থামেনি আন্দোলন। দিল্লির সাউথ এভিনিউয়ের নিজ বাসভবনের বাইরে থেকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করে পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তোলা হলে তিনি ও তাঁর দলের নেতারা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এছাড়া দিল্লির লোধি এস্টেটের সামনে থেকে আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করা হয়। কেরালার পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকারসহ বামপন্থী শীর্ষ নেতারাও পুলিশের হাত থেকে রেহাই পাননি। এমনকি এআইএসএ নেত্রী নেহা বোরাকে আটক করা হলে শিক্ষার্থীরা পুলিশ বাস ঘিরে তীব্র স্লোগান দেন।

Delhi Protest 02
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’র অভিযোগ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জানপথ ও কর্তব্যপথ ক্রসিংয়ের চার কিলোমিটারের মধ্যে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়। বিরোধী দলগুলো এই নজিরবিহীন কড়াকড়িকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সিজেপির মূল নেতৃত্ব আটক থাকলেও তাদের পরবর্তী নির্দেশ অনুযায়ী বিকল্প স্থানে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির সেকেন্ড ইন কমান্ড অজয় শিন্ডে। সবমিলিয়ে ভোটার তালিকা জালিয়াতি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন অগ্নিগর্ভ।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এনডিটিভি-ইন্ডিয়া টুডে