সুপ্রিমকোর্টের পথে রাহুল গান্ধী, রাজপথে হাজারো জনতা!

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আবারও উত্তাল দেশটির রাজধানী দিল্লি। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির প্রতিবাদে সোমবার দিল্লিতে রাজপথ ও আইনি লড়াই একসঙ্গে নতুন মোড় নিয়েছে। শুরু হয়েছে বিরোধীদের পূর্ব ঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচি।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যরা এবং প্রখ্যাত আন্দোলনকর্মী নেহা বোরাকে নিয়ে কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া থেকে বাসে চড়ে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

বাসগুলো বারখাম্বা রোডে পৌঁছালে সেখান থেকে তারা তিলক মার্গে অবস্থিত সুপ্রিমকোর্ট অভিমুখে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে ও গাড়িতে অতিক্রম করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের সমর্থনে রাস্তায় হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক ভিড় জমিয়েছেন।

অন্যদিকে, তরুণদের রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা দিল্লি পুলিশের কাছে যন্তর মন্তরে নতুন করে বিক্ষোভ আয়োজনের তারিখ চেয়ে আবেদন করেছেন। দলের মুখ্য মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে পুলিশকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার চরম আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যন্তর মন্তরে সমাবেশের সময় দেয়া না হলে পুরো দিল্লি জুড়ে পুনরায় বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

১০ অক্টোবর শনিবার জন্তর মন্তরে পৌঁছাতে চাওয়া হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। পরদিন রবিবার সিজিপি নেতা অভিজিৎ দীপক, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তারের পর নির্বাহী হাকিমের সামনে হাজির করা হলে এক বছরের জন্য 'শান্তি বজায় রাখার' শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তি পেয়েই মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে পৌঁছান সিজিপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক।

সেখানে এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে তিনি দিল্লি পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁর আটকের পুরো ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের দাবি তোলেন। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁর দাদির মৃত্যু হলেও তাঁকে আইনজীবী কিংবা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জনপথ, মান্ডি হাউস, বারখাম্বা রোড, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক এবং প্যাটেল চক, দিল্লির এই ৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন।

যদিও পূর্ববর্তী আদেশে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিল, সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের চলাচলের অধিকার ও ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত করা যাবে না। কিন্তু পুলিশের এই নজিরবিহীন কড়াকড়ি ও গণ-গ্রেপ্তারে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিরোধী নেতারা। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, সাধারণ প্রতিবাদের মুখোমুখি না হয়ে মোদী ও অমিত শাহ পুরো দিল্লিকে এক যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এনডিটিভি