ভারতের রাজধানী দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রতিবাদের স্থান যন্তর মন্তরে আর দেখা মিলবে না কোনো রাজনৈতিক ব্যানার, মাইকের গর্জন কিংবা স্লোগানের আওয়াজ! হাই-সিকিউরিটি জোন হিসেবে পরিচিত দিল্লির এই আইকনিক এলাকাটিকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় প্রশাসন। এখন থেকে দিল্লির আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য তিনটি নতুন স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত একটি বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার আনুষ্ঠানিকভাবে যন্তর মন্তরকে 'ডি-নোটিফাই' বা অবৈধ ঘোষণা করে এই জরুরি নির্দেশ জারি করেন। ঘোষিত নতুন তিনটি বিকল্প আন্দোলন কেন্দ্র হলো, ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এই নতুন তিন স্থানে প্রতিবাদ ও সভা-সমাবেশ আয়োজনের জন্য আলাদা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা নির্দেশিকা জারি করা হবে।
বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ ও ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যখন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ এবং ককরোচ জনতা পার্টির যৌথ আন্দোলনে দিল্লির কেন্দ্রস্থল উত্তাল, ঠিক তখনই কেন্দ্রের এই নজিরবিহীন ও চতুর পদক্ষেপ সামনে এলো। দিল্লির পুলিশ সরাসরি অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায়, স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীরা একে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের নগ্ন চক্রান্ত হিসেবে তীব্র আক্রমণ করতে শুরু করেছে।
যদিও প্রশাসনের দাবি, জন্তর মন্তরের আশপাশে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর ও ভিভিআইপি রুট থাকায় সেখানে প্রতিদিনের মিছিল-মিটিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম যানজটে ভুগতে হতো। এবার সেই সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে। তবে মূল রাজপথ ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে আন্দোলনকারীদের দূরে সরাতেই কি এই চাল? এমন প্রশ্নে এখন সরগরম দিল্লির রাজপথ ও রাজনীতি!
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
