ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা পদযাত্রার পরিকল্পনা করার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আদালতের আদেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
শনিবার একটি স্থানীয় আদালত তাঁকে ৫০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের শান্তি বিনষ্ট না করার মুচলেকা বা ‘পিস বন্ড’ সইয়ের শর্তে মুক্তির নির্দেশ দেয়।
আদালতের শুনানির পরপরই মন্দির মার্গ থানা থেকে মুক্তি পান তিনি। দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টার পুলিশি হেফাজত শেষে বের হয়ে সামাজিক মাধ্যম এক্সে ২০০৪ সালের ‘ভীর-জারা’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য শেয়ার করেন দীপকে, যেখানে দীর্ঘ ২২ বছর পাকিস্তানের জেলে বন্দী থাকার পর প্রধান চরিত্র শাহরুখ খানকে অশ্রুসজল চোখে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে দিপকে ব্যঙ্গাত্মক সুর মিলিয়ে লেখেন, ‘ওয়াইফাই ও ফোন ছাড়া ২৪ ঘণ্টা জেলে থাকার পর ঠিক এমন অনুভূতিই হয়’।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা ওড়ানো ও প্রতিবাদ মিছিলের চেষ্টা করার সময় দীপকে এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাসহ প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।
নেহা বোরাকে দিল্লি পুলিশ আইনের অধীনে প্রক্রিয়াকরণ শেষে শনিবার ভোরে ছেড়ে দেয়া হলেও, দিপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ এবং ১৭০ ধারায় শান্তি ভঙ্গের অপরাধ এনে নতুন মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরে শনিবার তাঁকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে বিমান থেকে নামার পরপরই তাঁকে প্রথমবার আটক করা হয়েছিল এবং সে সময়ও এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল।
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েই কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি পুলিশের ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেহা বোরা। বেআইনিভাবে রাতভর থানায় আটকে রাখার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আমাকে মান্ডি হাউস থেকে আটক করে ভোর ৫টা পর্যন্ত থানায় রাখা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন আইনের দোহাই দিলেও বাস্তবে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না।
সেই সাথে তিনি অবিলম্বে বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বাতিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং কারাবন্দী অন্যান্য সকল বিক্ষোভকারীর অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, সিজেপির অপর দুই জ্যেষ্ঠ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস পূর্বঘোষিত নিষিদ্ধ এলাকা যন্তর মন্তরে প্রবেশের দায়ে বর্তমানে তিহাড় জেলে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
সমগ্র বিষয় নিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি তীব্র আকার ধারণ করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তাদের সিদ্ধান্তগুলো সুপ্রিম কোর্টের অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি এই বিক্ষোভগুলোকে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এবং দেশে নৈরাজ্য ছড়ানোর পাঁয়তারা বলে আখ্যা দিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবারও সেন্ট্রাল পার্ক ও কনট প্লেস এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) সহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স