জীবনযাত্রার চরম ব্যয়বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় পরিষেবা অবক্ষয়ের প্রতিবাদে ফের গণবিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। গত সপ্তাহের ভয়াবহ দাঙ্গা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি রুখতে শনিবার রাজধানী প্যারিসসহ দেশজুড়ে নামানো হয়েছে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজপথে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার সশস্ত্র পুলিশ ও জেন্ডারমেস সদস্য। তা সত্ত্বেও একাধিক শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেন জানিয়েছেন, অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা এড়াতে শনিবার দুপুর পর্যন্ত দেশজুড়ে তল্লাশি চালিয়ে অন্তত ১৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে আতশবাজি, মার্বেল বা বল বিয়ারিংসহ দেশীয় নানা অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্রের পক্ষ থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ব্যাপক উসকানি রয়েছে। আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
প্যারিসের মূল প্রতিবাদ মিছিলটি প্রথম দিকে শান্তিপূর্ণ হলেও দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর লিঁওতে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ছোড়ে পুলিশ। গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভের পর এটি ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় নাগরিক অসন্তোষে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার আগের চেয়ে আরও ১০ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সহিংসতার আশঙ্কায় পুরো প্যারিস শহর যেন এক অবরুদ্ধ দুর্গে পরিণত হয়েছে। ল্যুভোর, দ্য ওরসে মিউজিয়াম এবং প্যারিস অপেরার মতো বিশ্বখ্যাত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো জনস্বার্থে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অর্ধেকেরও বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকার পাশাপাশি বিপণিবিতানগুলোর সামনে কাঠের বোর্ড দিয়ে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। বহু ব্যবসায়ী নিজেদের দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ঘুরতে আসা বিদেশি পর্যটকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
প্রতিবাদের মূল রুট পরিবর্তন করা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কট্টর বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলেনশঁ। তিনি অভিযোগ করেন, শেষ মুহূর্তে রুট বদলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত করছে প্রশাসন। অন্যদিকে, প্যারিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে অরলিন্স শহরে মেরিন ল পেনের উগ্র ডানপন্থী দল 'ন্যাশনাল র্যালি'-র কনফারেন্স চলাকালীন হাজার হাজার মানুষ সমাবেশ করে সেখানে বর্ণবাদবিরোধী স্লোগান দেন। গত শুক্রবার প্যারিসের পশ্চিমে এক ইসলামোফোবিক বন্দুকধারীর গুলিতে ১ জন নিহত ও ১২ বছরের এক শিশুসহ ৪ জন আহত হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে এই ক্ষোভের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স