নতুন নির্বাচন কমিশনকে সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিতেই তা গঠন করা উচিত মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।
পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন সিইসি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি এই বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারেন।
বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
এর আগে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয় বৈঠকে।
এই ধাপে দেশের ৮৪৮টি ইউপিতে ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৭ অক্টোবর, মনোনয়ন বাছাই ২০ অক্টোবর, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২৬ অক্টোবর ও প্রতীক বরাদ্দ ২৭ অক্টোবর। পাশাপাশি ২০টি ইউনিয়নে ইভিএম এ ভোট নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি। সেই প্রসঙ্গ সামনে এনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেন, রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন গঠন হওয়া উচিৎ। যাতে নতুন কমিশন গ্রহণযোগ্য হয়।
ঐকমত্য কিভাবে হতে পারে এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘এটা তো রাষ্ট্রপতি করতে পারেন। গতবার তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এটা তো রাষ্ট্রপতির বিষয়। সেটা বলতে পারবো না। এটা ওই স্টেজে হতে পারে। আমাদের করণীয় কিছু নেই। ঐকমত্যের বিষয়ে আমাদের কোনো ভূমিকা থাকে না’।
কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে নুরুল হুদা বলেন, সেটি সংসদের কাজ। আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই আইনগুলো হয়। সেখান থেকে কোন ইঙ্গিত আসেনি। তারা বলেন, সাংবিধানিক যে ব্যবস্থা আছে সে অনুযায়ী করার কথা। এটা আমরা টেলিভিশন, পত্রপত্রিকায় দেখি। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি জানান, সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে ‘আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে’ নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও গত ৫০ বছরে কোনো সরকারই এমন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
আরও পড়ুন: নিরুপায় কৃষক, দালাল ছাড়া মেলে না ঋণ
ইসি মোটেই অনাস্থার জায়গা নয় দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘জনগণের আস্থা নেই একথা বলা যাবে না, জনগণ তো বলেনি আস্থা নেই’।
এছাড়া, রাশিয়ার নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নুরুল হুদা বলেন, সেই দেশের ডিজিটাল সিস্টেম ‘অত্যন্ত উঁচুমানের’ বলে তেমন ভোট বাংলাদেশে আপাতত সম্ভব নয়।
একাত্তর/আরএ