কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন (৩৫) সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে কক্সবাজার থেকে আটক করা হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত থেকে ইকবাল সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে।
তবে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিই ইকবাল হোসেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর ভোরে কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে একটি অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়। এরপর কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই মণ্ডপে হামলা চালায় একদল লোক। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে দেশের একাধিক মন্দির-মণ্ডপে হামলা হয়।
বুধবার (২০ অক্টোবর) একটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ইকবালকে শনাক্ত করে পুলিশ। তারপর থেকেই তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলো পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
আরও পড়ুন: পূজা মণ্ডপে হামলার উসকানি, ইসলামি বক্তা গ্রেপ্তার
বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, এক যুবক রাত ২টার পর স্থানীয় দারোগাবাড়ী শাহ আব্দুল্লাহ গাজীপুরী (রহ.) এর মাজার থেকে বেরিয়ে পূজামণ্ডপের দিকে যাচ্ছে, তখন তার হাতে পবিত্র কোরআন শরিফ ছিল।
এরপর ৩টা ১২ মিনিটের দিকে তাকে পূজামণ্ডপের দিক থেকে ফিরে আসতে দেখা যায় আরেক ভিডিওতে। তখন তার হাতে পবিত্র কোরআন শরিফের পরিবর্তে ছিল একটি গদা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর ভোরে নানুয়া দীঘির ওই পূজামণ্ডপে থাকা হনুমানের মূর্তির কোলে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফ রাখা ছিল। তখন হনুমানের মূর্তির হাতে থাকা গদাটি পাওয়া যায়নি।
একাত্তর/আরবিএস