খালেদা জিয়া ভালো আছেন। আপাতত কোনরকম বিপদের কোন সম্ভাবনা নেই। এমনটাই জানালেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (২৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটায় বেগম খালেদা জিয়ার সবশেষ শারিরীক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির মহাসচিবের সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মির্জা ফখরুল। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ডা. জাহিদ জানান, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন যাবত কারাবন্দী অবস্থায় অসুস্থাতার সাথে দিনযাপন করছিলেন। গত এপ্রিল থেকে জুন মাসের মাঝে একবার কোভিডে আক্রান্ত হন নেত্রী। ৫৭ দিন হাসপাতালে থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। পরবর্তীতে তাকে দেশের বাইরে নিয়ে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আবেদন করা হলেও তা আজ পর্যন্ত আমলে নেয়নি সরকার।
ডা. জাহিদ আরও জানান, খালেদা জিয়া কিছুদিন জ্বরে ভোগায় মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যদের পরামর্শে ১২ই অক্টোবর পুনরায় এভার কেয়ার হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে নিয়ে আসা হয় তাকে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তার একটি বায়োপসি করার প্রয়োজন পড়ে। আজ তার বায়োপসি করা হয়েছে। এখন তিনি সুস্থ আছেন।
আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে সাম্প্রদায়িক সংহিতার ঘটনায় আরো ১১ জন গ্রেপ্তার
অপারেশনের পর খালেদা জিয়া তার বড় ছেলে তারেক রহমান, ছোট ভাই সাইদ ইস্কান্দার এবং ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের সাথে কথা বলেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ডা. জাহিদ।
অপারেশন পরবর্তী পর্যবেক্ষণে রয়েছেন খালেদা জিয়া তার শারীরিক অবস্থা এখন ভালো আছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক।
উল্লেখ্য গত ১২ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। সপ্তাহখানেক তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তবে, পরিবার বা দলের পক্ষ থেকে এতো দিন কেউ কথা বলেনি।
বিএনপি নেত্রী চলতি বছরের এপ্রিলে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হন। বাসায় চিকিৎসা নিয়ে সেরে উঠলেও শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় ২৭ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস তিনি এভারকেয়ারের সিসিইউতে ছিলেন। ১৯ জুন তিনি বাসায় ফেরেন।
এর মধ্যে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য বেগম খালেদা জিয়া দুই দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান।
গত ১৯ জুলাই করোনার প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার পর, ১৮ আগস্ট দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেন খালেদা জিয়া। কিন্তু বাসায় কিছুদিন ধরে তার শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা করছিলো।
দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড হলে, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ এক নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে তাকে কারাগার থেকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়। পরে আরও তিনবার তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সরকার।
একাত্তর/এআর