জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা মাথায় রেখে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। আর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নেও মনোযোগী হবার তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
বুধবার (১ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপনের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এক সঙ্গে হাজারো মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়।
এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত আর সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মিলনে মেলায় পরিণত খেলার মাঠে।
দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মোহাম্মদ রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ভার্চ্যুয়ালি সংযুক্ত হয়ে মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
আরও পড়ুন: পার্বত্য জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিষ্ঠার সাথে করার পরামর্শ রাষ্ট্রপতির
উদ্বোধনী ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১০০ বছরের পথ পরিক্রমায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে যা কিছুই উপহার দিয়েছে তা নিঃসন্দেহে গর্ব ও গৌরবের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি বাঙালী জাতির ইতিহাসে বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি অনন্য মাইলফলক।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বুদ্ধিজীবী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে প্রয়োজন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করবে এবং দেশ ও জাতিকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে-এ প্রত্যাশা রইলো।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে শিক্ষামন্ত্রী ডা দিপু মনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাস এবং বাংলাদেশ একটি জাতিরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার ইতিহাস অবিচ্ছেদ্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হয়েছে গবেষণামূলক শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে।
তিনি আরও বলেন, ‘যাদের রক্তের বিনিময়ে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা তাদের অনেকেই ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অবদান রাখার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করবে বলে আমার বিশ্বাস’।
আরও পড়ুন: গাড়ি ভাঙচুর ছাত্রদের কাজ নয়: প্রধানমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, পূর্ব বাংলায় একটি শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত ও বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেণির বিকাশ ঘটিয়ে একটি জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সেই রাষ্ট্রের সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতির বিবর্তন ও উন্নয়নে অব্যাহতভাবে যদি কোনও একক প্রতিষ্ঠান অনন্য সাধারণ ভূমিকা ও অবদান রেখে থাকে, তা নিঃসন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এটি বিশ্বে বিরল।
তিনি আরো বলেন, একুশ শতকের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে অটোমেশন এবং রোবোটিকস ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ ইন্টারনেটভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলে উদ্ভূত নানামুখী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই এখন আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে স্মৃতিচারণকালে বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা শিখেছি আর্ত মানবতার সেবা’।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি বাড়ানোর আহবান জানান তিনি।
একাত্তর/এসজে