বাবলা বনে জীবন্ত মাটিচাপা দেয়া হয় ১৭ বুদ্ধিজীবীকে

দেশ স্বাধীনের পরপরই খোঁজ পাওয়া যায় রাজশাহীর পদ্মা পাড়ের বাবলা বন বধ্যভূমির। যেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ ১৭ জন বুদ্ধিজীবীর মরদেহ পাওয়া যায়। 

যাদের মধ্যে এক দড়িতে গলায় ফাঁস লাগানো ছিল ১২ জনের। তাদের জীবন্ত মাটিচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো। 

তাদের মরদেহ দেখতে সেদিন পদ্মার পাড়ে জনতার ঢল নামে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও সরকারিভাবে বাবলা বন গণহত্যা দিবস পালন করা হয় না।

১৯৭১ সালে রাজশাহী মহানগরীর শ্রীরামপুরের বোয়ালিয়া ক্লাব ভবন দখলে নিয়ে টর্চার সেল গড়ে তুলেছিলো পাকিস্তানি বাহিনী। 

যেখানে স্বাধীনতাকামী মানুষদের ধরে এনে নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের পর হত্যা করে ফেলে দেওয়া হতো পাশের পদ্মা নদীতে।

আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরে আসছে আফগানিস্তান

পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিজয়ের আগে রাজশাহীর শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার বুদ্ধিজীবীদের ধরে এনে হত্যার পর গণকবর দেয়া হয় বাবলা বনে।

বিজয়ের পরপরই ৩০ জানুয়ারি বাবলা বনে গণকবরের সন্ধান মেলে। সেখানে পাওয়া যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মীর আব্দুল কাইয়ুম, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য নাজমুল হক সরকার, সরকারি কর্মকর্তা আবদুল হক সরকার, ব্যবসায়ী নওরোজ দৌলা খানসহ ১৭ জনের মরদেহ। 

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর গেলো বছর এই স্থানটিতে নির্মাণ করা হয়েছে বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ। তবে সেখানে যারা শহীদ হয়েছেন তার নামফলক দেওয়ার দাবি মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রহকারী।


একাত্তর/এসজে