রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঝরছে বৃষ্টি। আছে ঝড়ো হাওয়াও। বৃষ্টির সঙ্গে কনকনে হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিপাকে দরিদ্র জনগোষ্ঠিরমানুষ।
আবহাওয়া অফিস বলছে, আরও দুই-একদিন এই বৃষ্টি থাকবে। আর বৃষ্টি বন্ধ হলে তাপমাত্রা কমার সাথে সাথে আরেক দফা শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
দু’একদিনের মধ্যে মেঘ-বৃষ্টি কেটে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিদায়ের পথে যাবে শীতকাল। ফাগুনে প্রবেশ করবে আবহাওয়া। উত্তরের বাতাস সরিয়ে দখল করবে দখিনা হাওয়া।
পঞ্চগড়ে ভোর থেকেই বৃষ্টি ঝরছে। সাথে বইছে বাতাস। এতে তীব্র হচ্ছে শীত। সেই সাথে শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ভোর থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি ও শীতের কারণে অনেক খেটে খাওয়া মানুষ বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় কাজে যোগ দিতে পারছে না। ফলে তারা চরম বিপাকে পড়েছে।
আবহাওয়া অফিস বলছে, বৃষ্টির ফলে দিনের তাপমাত্রা আরো একটু কমবে। রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
পাশের জেলা দিনাজপুরে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন, শুক্রবার সকালে বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড হয়েছে ৭.২ মিলিমিটার। ভোর রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে।
সকাল থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে উত্তরের জনপদ লালমনিরহাটের বাসিন্দাদের দুর্ভোগও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা।
সকালে সকালে হিমেল বাতাস উপক্ষা করে অনেকে মাঠে গেলেও বৃষ্টির কারণে আবার ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন তারা। শঙ্কায় আছেন, বোরো বীজতলা তৈরি করা নিয়েও।
রাজশাহীতেও মাঘের বৃষ্টিতে শীত জেঁকে বসেছে। মধ্যরাতের পর থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলেও শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যায়।
সূর্য ঢাকা পড়েছে মেঘের আড়ালে। মাঝারি বৃষ্টি এবং সেই সঙ্গে আকাশে মেঘও রয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে খেটে খাওয়া মানুষের দূর্ভোগ বেড়েছে।
স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে রাস্তায় মানুষের চলাচল ও গাড়ি চলাচল ছিলো অনেক কম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছে না।
গত সপ্তাহের শুরুর দিকে তীব্র শীতের পর মঙ্গলবার থেকে শীত কমে আসতে শুরু করে। তবে শুক্রবার সকাল থেকে টান বৃষ্টিতে আবারো শীত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জয়পুরহাটেও রাত থেকে বৃষ্টি ঝরছে। বৃষ্টির সাথে বইছে ঠান্ডা বাতাস। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষক কম আয়ের মানুষজন। ক্ষেত থেকে সরিষা ঘরে তুলতে পারছেন না চাষীরা।
গাইবান্ধায় রাত থেকে শুরু হয়েছে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাসে শীতের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। আর, কুড়িগ্রামেও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হচ্ছে বোরো রোপনের।
দক্ষিণের জেলা চুয়াডাঙ্গায় দুই দশমিক ছয় মিলি মিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি আর ঠান্ডা বাতাসে কষ্ট বেড়েছে কম আয়ের মানুষ আর প্রবীণদের।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। দুদিন পর উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির প্রভাব কমে আসবে। তখনো দক্ষিণাঞ্চলে হালকা বৃষ্টির আভাস থেকে যেতে পারে।
সেই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে বলেও জানায় আবহাওয়া অফিস।
একাত্তর/টিএ