র্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আমেরিকার আদালতে মামলা করবে বাংলাদেশ। এ সপ্তাহেই এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) একাত্তরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে।
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব ও সংস্থাটির সাবেক-বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর গত বছরের ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে আলাদাভাবে এ নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ) ও পররাষ্ট্র দপ্তর।
এই নিষেধাজ্ঞার পর আন্তর্জাতিক ১২টি মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে র্যাবকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে জাতিসংঘকে চিঠি দেয়।
এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারকে গত ১১ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। জানানো হয়, বাংলাদেশের অসন্তোষের কথা।
এরপরই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনকে প্রথমে ফোনে এবং তারপর চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ জানতে চায়, কতদিন এবং কেন এই নিষেধাজ্ঞা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, দুই মাস পর দেয়া সেই চিঠির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর বলছে, সময় দরকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, র্যাবে কর্মকাণ্ড নিয়ে যে বিভ্রান্তি রয়েছে তা দূর করতে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের হয়ে কথা বলার জন্য লবিস্ট বা আইনজীবী নিয়োগ করার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ল’ ফার্মের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন-রাশিয়া সঙ্কটে বাড়ছে জ্বালানির দাম
তিনি জানান, আগামী মার্চ ও এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে, সেখানেও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।
শাহরিয়ার আলম আরও জানান, নতুন করে আর কোন বাংলাদেশির উপর নিষেধাজ্ঞা আসবে না বলেও বিশ্বাস করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
একাত্তর/আরএ