ইউক্রেন-রাশিয়া সঙ্কটের মধ্যে সারা বিশ্বে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দুইটির দাম।
ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল প্রতি মূল্য সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৯৯.৩৮ ডলার।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে রাশিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সেখানে সৈন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ায় জ্বালানির মূল্য আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারা বিশ্বের শেয়ার বাজারেও রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে।
এদিকে, পুতিনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার উপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে, আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা আরোপিত হলে সারা বিশ্বে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হবে।
ম্যানইউলাইফ ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজেমেন্টের সু ত্রিন বলেন, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলে তারা অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিতে বাধ্য হবে যার বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতির উপর।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার পাঁচ ব্যাংক ও তিন ব্যক্তির ওপর ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা
ফিডেলিটি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক মাইক কুরি বলেছেন, আগামীতে এক ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, সারা বিশ্বে ব্যবহৃত তেলের প্রতি ১০ ব্যারেলের একটি আসে রাশিয়া থেকে। একারণে তেলের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, এরকম পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বেই তেল ও গ্যাসের পাইকারি মূল্যও বেড়ে যেতে পারে। যার জের ধরে খুচরা মূল্যও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের পর রাশিয়া হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ। ইউরোপের অনেক দেশের গ্যাসের উৎসও রাশিয়া। এ দেশটিতেই সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন করা হয়।
একাত্তর/জো
