সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা সম্পর্কে যা জানা গেলো

ছয় মাস থেকে এক বছরে মধ্যে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। 

বুধবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৮-৫০ বছর বয়স পর্যন্ত নাগরিকরা নির্দিষ্ট অংকের চাঁদা দিয়ে ৬০ বছর বয়স হবার পর মাসিক পেনশন তুলতে পারবে। ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত সুবিধা নিতে পারবে।

তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, কেউ যদি ১৮ বছর বয়স থেকে মাসে এক হাজার টাকা চাঁদা দেন, তাহলে মাসে পেনশন পাবেন ৬৪ হাজার টাকা।

মুস্তফা কামাল জানান, এজন্য একটা তহবিল গঠন হবে এবং সেখানে বছরে যে পরিমাণ চাঁদা জমা হবে, সেই পরিমাণ অর্থ সরকার জমা দেবে। 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও একই সুযোগ রাখা হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বার্ধক্যজনিত কারণে অভাবগ্রস্ত নাগরিকরাও এই পেনশন পাবেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর। ২০৫০ সালে হবে ৮০। ২০৭৫ সালের প্রাক্কলনে দেখানো হয়েছে ৮৫ বছর। 

এতে দেখা যায়, আগামী তিন দশকে মানুষ অবসর গ্রহণের পর আরও ২০ বছর তার আয়ু থাকবে। সে সময়ে তার আয় থাকবে না, কিন্তু তিনি বেঁচে থাকবেন। তাই তাদের দেখভালের জন্য কারও না কারও দায়িত্ব নিতে হবে। সরকার সে দায়িত্বটা নেবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কত টাকা পাওয়া যাবে সেটা পেনশন কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে। এতে অংশগ্রহণ করতে পারবে সবাই। যারা অংশ নেবে, তারা যতটুকু দেবে সরকার ততটুকুই দেবে।

মন্ত্রী জানান, জমাকারীর অবর্তমানে এককালীন টাকা তোলার কোনও সুযোগ থাকবে না। তবে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পেনশনের ৫০ ভাগ ঋণ হিসেবে উত্তোলন করা যাবে। 

কোনও জমাকারী ১০ বছর চাঁদা দেয়ার পর যদি মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে জমাকৃত অর্থ তার মনোনীত ব্যক্তিকে ফেরত দেয়া হবে। 

পেনশনের জন্য নির্ধারিত চাঁদা পরে আলোচনা করে ঠিক হবে। পেনশন কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য ব্যয় সরকার নির্বাহ করবে। কর্তৃপক্ষ বাজেটে নির্ধারিত টাকা পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যয় করবে। 

আরও পড়ুন: জেব্রা মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত

অর্থমন্ত্রী বলেন, কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দেয়ার মাধ্যমে মাসিক পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি পেনশন অ্যাকাউন্ট থাকবে। 

ফলে চাকরি পরিবর্তন করলেও পেনশন হিসাব অপরিবর্তিত থাকবে। মাসিক সর্বনিম্ন চাঁদা নির্ধারিত থাকবে। তবে প্রবাসীরা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে চাঁদা দিতে পারবেন। 

চাঁদা জমা দিতে ব্যর্থ হলে হিসাব সাময়িক বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে জরিমানাসহ বকেয়া দিয়ে হিসাব চালু করতে পারবেন। 

পেনশনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ৬০ বছরপূর্তিতে নির্ধারিত হারে তহবিল থেকে আসবে। পেনশনধারীরা মৃত্যুর আগে পর্যন্ত পেনশন সুবিধা ভোগ করবেন। 

নির্ধারিত চাঁদা দানকারী ৭৫ বছর হওয়ার আগে মৃত্যুবরণ করলে জমাকারীর নমিনি পেনশন পাবেন। সেক্ষেত্রে নমিনি ৭৫ বছর পর্যন্ত পেনশন পাবেন।