ভরা মৌসুমে চালের বাজার অস্থির হবার পেছনে ছয়টি বড় প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করলেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের বাজার থেকে চাল কিনে মজুদ করায় বাজার অস্থির হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারী দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, দেশের বাজারে কেউ প্যাকেটজাত চাল বিক্রি করতে পারবে না।
ভরা মৌসুমেও প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সব ধরনের চালের দাম। দাম বাড়ার বিষয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দায়ী করে আসছেন মিল মালিকদের।
তাদের অভিযোগ, মালিকদের অবৈধ মজুত আর বাড়তি দামের অপেক্ষায় চাল না ছাড়ার কারনেই বাড়ছে দাম। আবার ধান সংগ্রহ করলেও, ছাটাই বন্ধ রেখে সংকট তৈরি করছে।
অন্যদিকে মিল মালিকরা দায় দিচ্ছেন, নতুন করে চাল ব্যবসায় যুক্ত হওয়া বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে। এসব প্রতিষ্ঠান চাল মজুদ করায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বাজারে
বাজারে যখন পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগ, তখন চালের বাজার অস্থির হবার পেছনে ছয়টি বড় প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।
সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর, বুধবার চালের বাজার নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশনার কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বাজার থেকে চাল কিনে প্যাকেটজাত করে তা আবার বিক্রি করা যাবে না। সেই সঙ্গে সরকারের বেঁধে দেয়া পরিমানের চেয়ে বেশি চাল কোন গুদামে পাওয়া গেলে সেই গুদাম সিলগালা করা হবে। এজন্য একটি আইন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের বাজার থেকে চাল কিনে যারা প্যাকেট করে বিক্রি করে তারা দেশের বাজার থেকে চাল কিনতে পারবেন না। তবে আমদানি করা প্যাকেট চাল বিক্রি করা যাবে।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এটা এখনো ফাইনাল হয়নি। তাদের যদি নিজস্ব মিল থাকে তারা সেখানে প্যাকেট করতে পারবে। কিন্তু বাজার থেকে চাল সংগ্রহ করে প্যাকেট করতে দেব না।
সাধন চন্দ্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও বাজার মনিটর করছেন। যারা মজুত করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আওয়ামী লীগের কেউ হলেও তাকে ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি জানান, আকিজ, সিটি, এসিআই, স্কয়ার, বসুন্ধরা, প্রাণসহ ৬টি গ্রুপের চালের মজুত পাওয়া গেছে। স্কুলের শিক্ষকদের কাছেও চালের মজুত পাওয়া গেছে।
সব চালের বাজারে, আড়তে ও মিলে, এমনকি গ্রামাঞ্চলেও কৃষক ছাড়া কেউ যদি ধান কিনে মজুদ রাখে সেখানেও অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান খাদ্যমন্ত্রী।