পদ্মা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় দুই কোটি টাকা

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর রোববার (২৬ জুন) সকাল ছয়টা থেকে যানবাহন পারাপারে সেতু খুলে দেওয়া হয়। এর পর গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৫১ হাজারের বেশি গাড়ি পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি টাকার বেশি।

সোমবার (২৭ জুন) সকালে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছে। 

তারা জানান, রোববার (২৬ জুন) ভোর ছয়টা থেকে সোমবার (২৭ জুন) ভোর ছয়টা পর্যন্ত সেতু দিয়ে মোট গাড়ি পারাপার হয়েছে ৫১ হাজার ৩১৬টি এবং একই সময়ে টোল আদায় হয়েছে  দুই কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ৩০০ টাকা।

জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া-প্রান্ত দিয়ে সেতু পার হয়েছে ২৬ হাজার ৫৮৯টি গাড়ি। সেখান থেকে টোল আদায় হয় এক কোটি আট লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ টাকা।

একই সময়ে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে সেতু পার হয়েছে ২৪ হাজার ৭২৭টি গাড়ি এবং টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা।

পদ্মাসেতু থেকে মাসে টোল আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বছরের হিসেবে তা হবে এক হাজার ৬০৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এ টাকা দিয়ে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াও নির্মাণ খরচের ঋণ পরিশোধ করবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। কোনো উন্নয়ন সহযোগী বা প্রতিষ্ঠানকে নয়, স্বয়ং বাংলাদেশ সরকারকে ৩৫ বছরে সুদসহ ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মিত। এর পুরোটাই সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ঋণ হিসেবে গ্রহণ করেছে। চুক্তির অনুচ্ছেদ ২ মোতাবেক ঋণের অর্থ প্রকল্প সমাপ্তির পর বার্ষিক ১ শতাংশ হারে সুদসহ ৩৫ বছরে ১৪০ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া নকশা প্রণয়নের সময় নেওয়া ২১১ কোটি টাকার বিপরীতে ৩৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে পদ্মা সেতুকে ‘বাঙালি জাতির গর্ব ও সামর্থ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া।

আরও পড়ুন: দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে চাপ নেই, গাড়ির অপেক্ষায় ফেরি

পদ্মা সেতুকে ‘প্রকৌশল বিস্ময়’ হিসাবে আখ্যায়িত করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেতুটি নির্মাণ একটি দুর্দান্ত কীর্তি। কারণ পদ্মা দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর পরে সবচেয়ে ‘অনির্ভরযোগ্য এবং অপ্রত্যাশিত’ নদী।


একাত্তর/এসি