দুই লাখ ইভিএম কিনবে ইসি, প্রকল্প ব্যয় ৮,৭১১ কোটি টাকা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দুই লাখ ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার সিদ্বান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এলক্ষ্যে একটি প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইসি।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত ইসির সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে বিস্তারিত সাংবাদিকদের জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন।

মো. আলমগীর বলেন, দুই লাখ ইভিএম কেনা, প্রশিক্ষণ ও জনবল নিয়োগসহ প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে আট হাজার ৭১১ কোটি টাকা। ইভিএম প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইসি।

এই প্রকল্পের আওতায় নতুন করে প্রায় দুই লাখ ইভিএম কেনা হবে। এ ছাড়া ইভিএম সংরক্ষণে জনবল তৈরি ও প্রশিক্ষণের জন্য এখানে ব্যয় রাখা হয়েছে।

কমিশনার আলমগীর বলেন, ১৫০ আসনে ইভিএমে নিবাচন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখনকার ইভিএম দিয়ে ৭০টি আসনে নিবাচন করা যাবে।

কমিশনের হাতে এখন প্রায় দেড় লাখ ইভিএম আছে। এক দিনে ১৫০ আসনে ভোট করতে হলে আরও প্রায় দুই লাখ ইভিএম প্রয়োজন হবে।

মো. আলমগীর বলেন, যাচাই বাছাই কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো বাজার যাচাইয়ের। কমিটির তথ্য নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। আমাদের কাছে তথ্যগুলো সঠিক মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, মোটাদাগে তিনটি খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আছে প্রায় দুই লাখ ইভিএম কেনা, ইভিএম সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং ইভিএমসংক্রান্ত জনবল তৈরি।

এই কমিশনার জানান, প্রকল্পটি এখন অনুমোদনের জন্য তারা পরিকল্পনা মন্ত্রনালয় ও একনেকে পাঠাবেন। যা সোমবারই করা হবে বলেও জানান তিনি।

মো. আলমগীর বলেন, প্রকল্পটি আমরা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর আগে জনবলের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সভা করতে হবে।

সেখান থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। একনেক ও পরিকল্পনা কমিশন এটার অনুমোদন করবেন কী করবেন না, সেটা তাদের ব্যাপার।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে ইসির সংলাপে ২২টি রাজনৈতিক দল ইভিএম নিয়ে মতামত দিয়েছিল। এর মধ্যে ৯টি দল সরাসরি ইভিএমের বিপক্ষে মত দিয়েছে।

আরও পাঁচটি দল ইভিএম নিয়ে সংশয় ও সন্দেহের কথা বলেছে। কেবল আওয়ামী লীগসহ চারটি দল ইভিএমে ভোট চেয়েছে।

 

একাত্তর/এসএ