রোজায় বেশি কিনে মজুদ না করতে প্রধানমন্ত্রীর আহবান

রোজার সময় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে মানুষের যেন কষ্ট না হয় সেজন্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে এই সময়ে বেশি বেশি কিনে ঘরে মজুদ না করতে সবার প্রতি আহবানও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৩ মার্চ) বিকেলে গণভবনে সদ্য সমাপ্ত কাতার সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান সরকার প্রধান। তিনি বলেন, বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। মানুষের যাতে কষ্ট না হয় রমজান মাসে, তার জন্য যথাযথ চেষ্টা আমরা করছি।

রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ে এক প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এখন আর পরনির্ভরশীল নই। আমরা নিজেরাই এখন উৎপাদন করছি। আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে। আশা করি রমজানে কোনো অসুবিধা হবে না। সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি এ সময় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কেউ খাদ্যপণ্য মজুত করে পচিয়ে ফেললে আমাদের তো কিছু করার থাকবে না। সেদিকে সাংবাদিকদেরও একটু নজর রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেকের একটা প্রবণতা থাকে, ‘জিনিসের দাম বেড়ে যাবে, আমরা অনেক কিনে ঘরে মজুদ করি’। দেখা গেল যে এত নুন কিনে মজুদ করে ফেলছে যে তা গলে পানি হয়ে গেল। বা এত পিঁয়াজ কিনে রেখে দিল যে পচে গেল। এটা যেন কেউ না করে।

তিনি বলেন, আমি বিশেষ করে বলব, কেউ এভাবে মজুদ করতে যাবেন না, যখন যেটুকু দরকার, সেটা বাজার থেকে নেবেন। আর নিজেদের ঘরে উৎপাদন করেন। যে যা পারেন, উৎপাদন করেন, আমাদের তাহলে আর কোনো অসুবিধা হবে না। আমাদের প্রচেষ্টা আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সাথে কিছু আছে, মজুদকারী, তারা মজুদ করে রাখার চেষ্টা করে। আর আমাদের কিছু কিছু বিরোধী দল তো আছেই, সব জায়গায় ঝামেলা পাকানোর জন্য একটা চেষ্টা। কথায় কথায় কোনো একটা কথা ছড়ালো, মিথ্যা একটা ধুঁয়া তুললো।

সবাইকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এগুলো তো হবেই, এখানে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। মানুষের যাতে কষ্ট না হয় রমজান মাসে, তার জন্য যথাযথ চেষ্টা আমরা করছি।

দ্রব্যমূল্য নিয়ে সরকার প্রধান আরো বলেন, খাদ্যদ্রব্য নিয়ে সমস্যাটা হচ্ছে, দাম বেশি কমালে উৎপাদকদের লোকসান হবে, আবার দাম বেশি বাড়ালে ভোক্তাদের কষ্ট হয়। এ জায়গায় সব সময় ব্যালেন্স করতে হয়। সরকার সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে।

রমজান মাসে চালের কোনো অভাব হবে না জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, দেশে ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য আমাদের মজুদ আছে। এক কোটি পরিবারকে ফেয়ার প্রাইস কার্ডে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে ডাল, তেল, চিনি এগুলো তারা কিনতে পারছে। এখন ছোলাও তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সিইসি

শেখ হাসিনা আরো বলেন, আর তার থেকে আরেকটু কম আয়ের যারা, প্রথমে ৫০ লক্ষ ধরেছিলাম, প্রয়োজনে এক কোটি লোক যদি পাওয়া যায়, তাদেরকেও আমরা ওই কার্ডের মাধ্যমে এই পণ্যগুলো, মাত্র ১৫ টাকা কেজিতে কিনতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর যারা একেবারেই কর্মক্ষম না, মানে কাজ করতে পারলে না, আমরা তো ভিজিডি ভিজিএফের মাধ্যমে মাসে ৩০ কেজি চাল দিয়ে দিচ্ছি। এভাবে কোনো স্তরের মানুষ যাতে কষ্ট না পায়, সেই ব্যবস্থাটা আমরা করেছি।

সবাই সহযোগিতা করলে বাংলাদেশে কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না বলে আশ্বস্ত করেন সরকার প্রধান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।


একাত্তর/আরএ