বিদ্যুতের সংকট সাময়িক: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

দেশে যে লোডশেডিং হচ্ছে তা খুবই সাময়িক বলে মন্তব্য করে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে। 

শনিবার এডিটরস গিল্ড, বাংলাদেশের সাপ্তাহিক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, এখন যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা খুবই সাময়িক। পরিস্থিতি আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসছি। এখন কয়লাও আসছে, গ্যাসও আসছে। বিদ্যুৎও ঠিক হবে। তবে আমাদের আমাদের একটু ধৈর্য হবে।

এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা ছাড়াও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।

সঞ্চালন মোজাম্মেল বাবু বলেন, এখন দেশে লোডশেডিং পরিমাণ বিগত সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় বেশি। বিষয়টা এমন যে, উন্নয়নের ফলেই বিদ্যুতের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিপুল বিদ্যুৎ উৎপাদন করেও প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে না। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের পর কোভিডের কারণে প্রথম সমস্যায় পড়তে হয়। তা পরবর্তীতে বাড়তে থাকে। এবছর আরো বড় চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিক্রি হয় টাকায়। আর জ্বালানি কিনতে হয় ডলারে। এটা একটা বড় সংকট। 

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো এলসি দিতে পারছিলনা। সেটা এখন ঠিক হয়ে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি করতে পেরেছি। এই বছরের মধ্যে ডিজেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু এখন বিদ্যুৎ দেয়া নিশ্চিতে সেগুলো চালাতে হচ্ছে।

নসরুল হামিদ বলেন, সারাবিশ্বে যারা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করেছিল, বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে তারা তা আবার চালু করছে। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে অকৃষি জমি দরকার সেই পরিমাণ জমি আমাদের নেই। আমাদের টার্গেট নেপাল ও ভুটান থেকে জল বিদ্যুৎ পাবো। সব মিলে ৪১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ ক্লিন এনার্জি পাবো।

সরকার বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ সিস্টেম লস থেকে ৭ শতাংশে এবং গ্যাসের সিস্টেম লস ৩০ থেকে ১২ 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা দুটোই জরুরি। শতভাগ বিদ্যুতায়ন বড় অর্জন। কিন্তু এটা তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ওনারা দিতে পারবেন না। সোলার কোনভাবেই এফোর্টেবল করা যাবেনা। ২০২৫ সালে জ্বালানি নিয়ে সংকটে পড়বেই, এটা আগেই বলা হয়েছিল। ব্যবসায়ীদের ক্যাপাসিটি বেড়েছে ডাবল।

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চের পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী বলেন, রিনিউবল এনার্জি অবহেলিত। রিনিউয়েবলে বিদ্যুতের দাম ঠিক করা থাকে। কিন্তু অন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর দাম আটকে দেয়া যায়না। এই মুহূর্তে অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় নবায়নযোগ্য শক্তির বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কম।

পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি যুদ্ধকালীন অবস্থায় একেবারে চাঙ্গা, রমরমা। সেখানে অর্থের অভাব নেই। মানুষ নেয়ারও কমতি নেই। আমরা মানুষও পাঠিয়েছি। রোজগারও করেছি। টাকা আসে নাই। 

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি একে আজাদ বলেন, সমুদ্রে তেল-গ্যাস পাওয়ার অনেক সম্ভাবনা অনেক বেশি। প্রতিবেশী দেশ সমুদ্র থেকে গ্যাস তুলছে। বাংলাদেশেরও এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিৎ। 

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী, এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের সম্পাদক মোল্লাহ এম আমজাদ হোসেন। 


একাত্তর/আরবি