‘সুষ্ঠু তদন্তই পারবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে’

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৪, ০৮:২৬ পিএম

বর্তমান তরুণ সমাজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী নয় এবং ভবিষ্যতেও তারা সমাজের যে কোনো অসংগতি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করবে। এডিটরস গিল্ড আয়োজিত 'নাশকতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ' শিরোনামে গোলটেবিল আলোচনায় এমন মত দেন বিশিষ্টজনেরা।

সংকট সমাধানে সংলাপ, নতুন প্রজন্মের আবেগ বোঝার পাশাপাশি সকল পক্ষকে ভুল স্বীকারেরও পরামর্শ দেন তারা।

এডিটরস গিল্ডের সভাপতি ও একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু বলেন, নাশকতার বিরুদ্ধে এবং জাতিকে একত্রিত করার জন্য কিছু মানুষের মুখ থেকে এখন ডাক আসা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের তরুণ সমাজ ও প্রজন্ম; সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অনুপ্রবেশকারী থাকতে পারে। তবে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী নন। গণজাগরণ মঞ্চে একত্রিত হয়ে তারা সেটা প্রমাণ করেছে।

‘তৃতীয় শক্তি, চতুর্থ শক্তি, পঞ্চম শক্তি বলে ঢালাওভাবে মন্তব্য না করে প্রথমবারের মতো হলেও বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু তদন্তই পারবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে,’ যোগ করেন মোজাম্মেল বাবু।

এবারের কোটা সংস্কারের আন্দোলন রাজনৈতিক আদর্শে গড়ে ওঠেনি, বলেই তৃতীয় শক্তি সুযোগ নিয়েছে। তবে, এই দোহাই দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই। এমনটাই মনে করছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।

সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, দেশের শাসক দলের সঙ্গে যে দূরত্ব বাড়ছে এটাতো অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন রুলিং পার্টি একটা কমিশন গঠন করে সত্যিকারের চিত্রটা কী, কেন হয়েছে, সেটা সেটা বের করতে হবে।    

সাবেক সচিব ও রাজনীতি বিশ্লেষক আবু আলম মো. শহীদ খান বলেন, ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব একটা নির্ধারণ করতে হবে। সেটা দলের মধ্যে এবং সরকারের মধ্যে। আর দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যেন মানুষ দেখতে পারে। যে এইসব লোকের কারণে এই ঘটেছে এবং সেগুলো আমরা নির্ধারণ করলাম।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সংকট ভবিষ্যতে আরও হবে কিন্তু। আজকে আমার ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বা কৌশল থাকা দরকার। যেখানে জনগণের সঙ্গে সমন্বয় হবে।

তারা বলেন, এবারের আন্দোলনে নতুন প্রজন্মের কণ্ঠস্বর শোনার চেষ্টা করেনি সরকার। তাই, তৈরি হয়েছে দূরত্ব।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংস্কৃতিজন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ভাষাটা বুঝতে পারিনি আমরা। আমরা তাদের ব্যাকগুলো, বিন্যাসগুলো বুঝতে পারছি না। কী চাচ্ছে, সেটা আমরা বুঝিনি। এমনকি আসলে ক্ষোভ আছে। সামাজিক ক্ষোভটা পরবর্তী পর্যায়ে ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব-উল-আলম বলেন, সরকার যদি এটুকু স্বীকার করে যে, হ্যাঁ এটুকু ভুল হয়েছে, তাহলে শুদ্ধতার রাস্তার জায়গাটা বের হয়ে আসবে। রাস্তা যখন পাবেন, তখন ওখানে বিভিন্ন অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ছাত্র রাজনীতির পক্ষে আমরা আছি। কিন্তু ছাত্র রাজনীতি যেনো ইমপোজিং ও ডমিনেটিং না হয়ে যায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে।

বিশিষ্টজনদের মতে, সেনাবাহিনী মোতায়েন বা নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দীর্ঘমেয়াদের সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন নতুন প্রজন্মের আবেগ বোঝা।

অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকার জনগণের কথা শুনতে পেয়েছে, আমরা এই কথাটাই সরকারের কাছ থেকে শুনতে চাই।

ঢাকা জার্নালের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, একটু প্রকাশ্যে বলা যে, আমাদের ভুল হয়েছে। এখন আমরা ভুল সংশোধন করে আস্থা ফিরিয়ে আনতে চাই।

এখনো টিভিতে যেসব মন্ত্রী-এমপি-ব্যবসায়ী ও নেতারা কথা বলছেন, তাদের প্রতি মানুষের কোনো সহানুভূতি নেই। এদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এদেরকে বদলে ফেলতে হবে।

মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মী খুশি কবীর বলেন, কিছু নেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছে দল জিম্মি হয়ে, সেটাকেই যদি ধরে নেয় যে, তারা তাদের রক্ষা করবে, এটা ঠিক না। জনগণের কাছে ফিরে আসতে হবে।  

 

 

আরবি
শেখ হাসিনা বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্টের (যুক্তরাষ্ট্রের) বক্তব্যে এসে গেলো যে লাশ পড়েছে। লাশের খবর তাদের কে দিলো? তাহলে লাশ ফেলার নির্দেশটা কে দিয়েছে? এটাও খবর নেওয়া দরকার। এবং তারপরে কিন্তু লাশ পড়তে...
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা নিজেদেরকে ‘রাজাকার ঘোষণা’ করে স্লোগান দেওয়াকে ‘বেদনাদায়ক ও একাত্তরের শহীদের আত্মদানের প্রতি অবমাননাকর’ বলে অভিহিত করে...
পিছিয়ে পড়া সকল গোষ্ঠী যাতে সমান সুযোগ পায় তার জন্য কোটা পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্টজনরা। আর এজন্য আলাদা কমিশন গঠনের তাগিদ দিয়েছেন তারা।
আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা এনেছে, দেশের সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন করেছে। তবে গণমানুষের দলটি বর্তমানে বেশিমাত্রায় আমলাতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলটিতে ভবিষ্যতের আদর্শিক নেতাও...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর