ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশে গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চায় বলে জানিয়েছে সংস্থাটির বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোর।
তিনি বলেছেন, আমরা জানি এখানে নির্বাচন আসছে। এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বাধীনভাবে হোক, আমরা তাই চাই। আমাদের পর্যবেক্ষক দল দেখে গেছে। তারা রিপোর্ট দেবে।
ইইউ’র এই বিশেষ প্রতিনিধি বলেন, আমরা যখন নির্বাচনের বিষয়ে দেখি তখন শুধু নির্বাচনের দিন কী হয়েছে তা দেখি না। নির্বাচনের আগে কীভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে, বিভিন্ন দল রাজনীতি করতে পারছে কিনা, দলগুলোর কী অবস্থা, নির্বাচনের আয়োজন কীভাবে হচ্ছে তার সব কিছুই দেখি।
মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব কথা বলেন।
গিলমোর বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানবাধিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানবাধিকার। আমরা মানবাধিকার শক্তিশালী করা ও ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন নিয়ে কথা বলেছি।
এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তবে অন্য দলগুলো নির্বাচনে আসার ব্যাপারে আলোচনা হয়নি। তবে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট রিফর্ম নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছি। একই সঙ্গে সুশীল সমাজের জন্য স্বাস্থকর পরিবেশ ও স্বাধীন গণমাধ্যম নিশ্চিতের ব্যাপারেও কথা বলেছি।
শাহরিয়ার আলম বলেন, জিএসপি পরের রিজমে কিভাবে কাজ করবে তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের কমিটি হয়েছে। আমার ইইউ বিশেষ প্রতিনিধিকে জানিয়েছি, প্রধানমন্ত্রীর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
আরও পড়ুন: বিদেশি বিনিয়োগে মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো রাখুন: ইইউ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন ইমন গিলমোর। এ সফরে গিলমোর রোহিঙ্গা ও মানবাধিকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বাংলাদেশে ইমোন গিলমোরের এটি দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২০১৯ সালের জুনে তিনি প্রথম বাংলাদেশে আসেন। ওই সফর শেষে গিলমোর বাংলাদেশে শ্রম অধিকারসহ মানবাধিকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা বলেছিলেন।
এবার ছয় দিনের বিশেষ সফরে ঢাকায় এসেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবাধিকার বিষয়ক এই বিশেষ প্রতিনিধি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় থাকাকালে গিলমোর রোহিঙ্গা ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। এছাড়া অন্য অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন।
একাত্তর/এসি