চট্টগ্রামের দুর্গতদের জন্য ৭০ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল বরাদ্দ

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ৭০ লাখ টাকা, ১০০ মেট্রিক টন চাল এবং ২১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

বুধবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন। ওই এলাকায় বহু মানুষ পানিবন্দি জীবন যাপন করছেন। সার্বিক পরিস্থিতি এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ জানাতে সাংবাদিকদের সামনে আসেন দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।  

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৩ জুলাই প্রত্যেক জেলায় আপৎকালীন দুর্যোগ মোকাবেলায় ২০০ টন করে চাল, ১০ লাখ টাকা এবং ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে গত ৭ আগস্ট ১০ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে।

এনামুর রহমান জানান, বুধবার বন্যাদুর্গত জেলার জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে চকরিয়া, পেকুয়া, লোহাগড়ায় জন্য ১০ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দিয়ে তা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ৭০ লাখ টাকা, ২১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ৭০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছি। সেইসঙ্গে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও পানির বোতল দেয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড়ী ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগড়া উপজেলা, কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা, বান্দরবানের রামু উপজেলা এবং রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির কিছু জায়গা প্রবলভাবে প্লাবিত হয়। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বন্যাদুর্গত এলাকায় সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান এনামুর রহমান। তিনি বলেন, ‘তারা দুর্গত এলাকার মানুষকে উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে গেছে। সেখানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চলমান আছে। মাঠ প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা দিতে কাজ শুরু করছেন।’

আপাতত নতুন করে আর বন্যার আশঙ্কা নেই বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, তার নেতৃত্বে শুক্রবার একটি প্রতিনিধি দল বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যাবে।

বৃষ্টিপাত দেখে পাহাড়ি এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল জানিয়ে এনামুর বলেন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। রাঙ্গামাটিতে ২৩৫টি জায়গায় পাহাড় ধস হয়েছে। পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মা ও এক সন্তান এবং পেকুয়ায় মাটির ঘর ধসে তিনজন মারা গেছেন।

বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়ার পর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডাকা হবে জানিয়ে এনামুর বলেন, ‘এরপর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ রাখা হবে, যাতে মাতামুহুরি, সাঙ্গু ও হালদা নদী খনন করা হয়।’

 

 

একাত্তর/কেএসএইচ